“অধিকার কাড়লে ঝাড়ু হাতে নিন!” মা-বোনেদের রণচণ্ডী হওয়ার ডাক দিলেন মমতা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই মেজাজ হারালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী সভা থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘মোটা ভাই’ সম্বোধন করে তুলাধোনা করার পাশাপাশি, মা-বোনেদের দিলেন এক অভাবনীয় নিদান। তাঁর সাফ কথা—ভোটের ময়দানে মহিলাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বা সম্মানে আঘাত লাগলে আর রেয়াত করা হবে না।
“রাস্তা ঝাঁট দিতে দিতে ভোট দিতে যান” নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। মা-বোনেদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “যদি কেউ ভোট দিতে বাধা দেয়, তবে মহিলারা সচেতন থাকুন। হাতে খিলের ঝাড়ু রাখুন। রাস্তা ঝাঁট দিতে দিতে ভোট দিতে যাবেন, কিন্তু নিজের অধিকার ছাড়বেন না।” বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার ভ্যানিশ করলে জনতা এবার আপনাদেরই ভ্যানিশ করে দেবে।”
নারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এদিন উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, বিহারের একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিআরপিএফ (CRPF) এবং বিএসএফ (BSF) কর্তারা জানিয়েছেন যে মহিলাদের শরীরও তল্লাশি করা হবে। এই প্রসঙ্গে গর্জে উঠে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “এত সস্তা? মেয়েদের মর্যাদা আর গোপনীয়তা নিয়ে ছেলেখেলা বরদাস্ত করা হবে না।”
মোটা ভাইকে কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, “নাম কেটে অধিকার ছেঁটে কিছু করতে পারবেন না মোটা ভাই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি অমিত শাহকে লক্ষ্য করেই এই আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোটাধিকার রক্ষা করা কেবল প্রশাসনের কাজ নয়, সাধারণ মানুষকেও এর জন্য বুক চিতিয়ে লড়তে হবে।
ভোটের লড়াই শুরুর আগেই মমতার এই ‘ঝাঁটা’ নিদান এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে করা মন্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুন উস্কে দিয়েছে। মহিলারা কি সত্যিই এই কড়া দাওয়াই মেনে নেবেন? উত্তর দেবে সময়।