বিশেষ: ৫ হাজার টাকার SIP-তে রিটার্ন ৫০ লাখ, জেনেনিন কত বছর লাগবে? রইলো হিসেব

জীবনে বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন কার না থাকে? কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অনেকের কাছেই ৫০ লক্ষ বা ১ কোটি টাকা জমানোটা অলীক কল্পনা বলে মনে হয়। তবে আধুনিক ফিন্যান্সিয়াল দুনিয়ায় আপনার এই মুশকিল আসান করতে পারে SIP (Systematic Investment Plan)। সঠিক সময়ে বিনিয়োগ শুরু করলে আপনিও অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারেন ৫০ লক্ষ টাকার ল্যান্ডমার্কে। দেখে নিন সেই জাদুকরী হিসেব।
SIP আসলে কী?
সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি হলো নিয়ম করে প্রতি মাসে মিউচুয়াল ফান্ডে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা। আপনার এই টাকা মিউচুয়াল ফান্ড হাউজগুলো বিভিন্ন শেয়ার বাজারে খাটায়। পেশাদাররা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে গড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া খুব একটা কঠিন নয়। তবে বাজারের ওঠা-নামার ওপর ভিত্তি করে এই রিটার্ন কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
৫০ লক্ষ টাকার মাইলফলক ছুঁতে কত সময় লাগবে?
আপনার মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে আপনার স্বপ্নের টাকা হাতে পাওয়ার সময়। ১২% গড় বার্ষিক রিটার্ন ধরে একটি সহজ গাণিতিক ছক নিচে দেওয়া হলো:
| মাসিক বিনিয়োগ (টাকা) | লক্ষ্যমাত্রা (টাকা) | আনুমানিক সময় (বছর) |
| ৫,০০০ | ৫০ লক্ষ | ২২ বছর |
| ১০,০০০ | ৫০ লক্ষ | ১৫ বছর |
| ১৫,০০০ | ৫০ লক্ষ | ১২ বছর |
| ২০,০০০ | ৫০ লক্ষ | ১০ বছর |
কোথায় বিনিয়োগ করবেন?
SIP-এর প্রধানত তিনটি ভাগ রয়েছে, আপনার ঝুঁকির ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে আপনি বেছে নিতে পারেন:
-
লার্জ ক্যাপ ফান্ড: এখানে বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে টাকা রাখা হয়। এতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম, রিটার্নও স্থিতিশীল।
-
মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ ফান্ড: এই ফান্ডগুলিতে রিটার্ন অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সাথে ঝুঁকির মাত্রাও থাকে তুঙ্গে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
মনে রাখবেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সময়’ হলো আসল চাবিকাঠি। যত অল্প বয়সে বিনিয়োগ শুরু করবেন, ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’-এর সুবিধা তত বেশি পাবেন। তবে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই একজন ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজরের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ মিউচুয়াল ফান্ড বাজারগত ঝুঁকির সাপেক্ষ।
তাই আর দেরি কেন? আজই ছোট থেকে শুরু করুন, আর কয়েক বছরের মধ্যেই আপনার অ্যাকাউন্টে দেখুন ৫০ লক্ষ টাকার ঝকঝকে ব্যালেন্স!