সুপ্রতিমকে যেতেই হবে তামিলনাড়ু? বাংলায় ৩০০০ সশস্ত্র পুলিশ পাঠাচ্ছে কমিশন

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ ভারতের নির্বাচন কমিশন। বাংলায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল দিল্লি। সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা না রেখে এবার ভিন রাজ্য থেকে প্রায় ৩০০০ সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নিয়ে আসা হচ্ছে বাংলায়। অন্যদিকে, প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের আবেদন খারিজ করে দিয়ে কমিশন বুঝিয়ে দিল—কাজে কোনও শৈথিল্য সহ্য করা হবে না।

বিহার-ইউপি থেকে আসছে সশস্ত্র বাহিনী

প্রথম দফার ভোটের আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপট শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী-সহ প্রায় ২৪০০ জওয়ান মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নয় কমিশন। নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করতে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি থেকে অতিরিক্ত ৩০০০ সশস্ত্র পুলিশ আনা হচ্ছে।

  • বাহিনী আসার দিনক্ষণ: আগামী ১৩ এপ্রিল থেকেই ধাপে ধাপে এই বাহিনী বাংলায় প্রবেশ করবে।

  • লক্ষ্য: স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কড়া নজরদারি এবং ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জাগানো।

সুপ্রতিম সরকারকে ‘নো-রিলিফ’

কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে নিয়ে কমিশনের অবস্থান এখন তুঙ্গে। তাঁকে তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি-সহ ৫টি স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছিল কমিশন। সুপ্রতিম বাবু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। কিন্তু কমিশন সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।

কমিশনের সাফ নির্দেশ, সোমবারের মধ্যেই তাঁকে তামিলনাড়ুতে পৌঁছে কাজে যোগ দিতে হবে। কোনও ওজর-আপত্তিই ধোপে টিকল না প্রাক্তন সিপি-র।

কেন এই কড়াকড়ি?

রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় নির্বাচনের সময় হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখেই এবার বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে কমিশন। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে সশস্ত্র পুলিশ আনার সিদ্ধান্ত শাসকদল তৃণমূলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, অন্যদিকে ভিন রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি— সব মিলিয়ে বাংলায় এবার ‘ক্লিন’ ভোট করাই কমিশনের পাখির চোখ।

ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, ততই প্রশাসনিক দড়ি টানাটানি তীব্র হচ্ছে। ১৩ এপ্রিল বাহিনী ঢোকার পর বাংলার নির্বাচনী মানচিত্রের উত্তাপ কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটাই দেখার।