চাকুরিজীবীদের পোয়াবারো! ৫ বছর নয়, ১ বছর কাজ করলেই মিলবে গ্র্যাচুইটি, নতুন লেবার কোডে বিরাট বদল!

আপনি কি কোনো কোম্পানিতে ফিক্সড টার্ম বা নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তিতে কাজ করেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে দুর্দান্ত সুখবর। নতুন লেবার কোড (New Labour Code) চালু হতেই গ্র্যাচুইটির নিয়মে এল আমূল পরিবর্তন। এতদিন ৫ বছর কাজ না করলে গ্র্যাচুইটি মিলত না, কিন্তু এবার সেই বাধা কাটল।
১ বছর কাজ করলেই কেল্লাফতে!
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফিক্সড টার্ম এমপ্লয়িজ (FTE) বা নির্দিষ্ট সময়ের অস্থায়ী কর্মীরা যদি টানা এক বছর কাজ করেন, তবেই তাঁরা গ্র্যাচুইটির সুবিধা পাবেন।
-
আগে কী নিয়ম ছিল: ১৯৭২ সালের গ্র্যাচুইটি আইন অনুযায়ী, টানা ৫ বছর কাজ করা বাধ্যতামূলক ছিল।
-
এখনকার সুবিধা: যদি আপনার কাজের চুক্তি ১৫ মাসের হয়, তবে আপনি ১৫ মাসেরই গ্র্যাচুইটি পাবেন। এমনকি ১ বছর ৫ মাস কাজ করলে পুরো ১৭ মাসের গ্র্যাচুইটি দিতে বাধ্য থাকবে কোম্পানি।
বেতন কাঠামো ও CTC-তে বদল:
নতুন লেবার কোড অনুসারে, কর্মীর মোট কস্ট টু কোম্পানি বা CTC-র ন্যূনতম ৫০ শতাংশ রাখতে হবে বেসিক স্যালারি।
-
যদি আপনার হাউজ রেন্ট (HRA) বা ট্রাভেল অ্যালাউন্স CTC-র ৫০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, তবে সেই অতিরিক্ত টাকা আপনার বেসিক স্যালারির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে।
-
এর ফলে আপনার গ্র্যাচুইটির অংক এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ সেটলমেন্ট:
চাকরি ছাড়ার পর সেটলমেন্টের টাকা পেতে এতদিন ৩০ থেকে ৬০ দিন অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু নতুন নিয়মে:
পদত্যাগের চিঠি পাঠানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানিকে কর্মীর সমস্ত পাওনা (গ্র্যাচুইটি, বেতন, এরিয়ার) মিটিয়ে দিতে হবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
মূলত যারা প্রোজেক্ট ভিত্তিক কাজ করেন বা নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তিতে সংস্থায় যোগ দেন, তাঁরাই এই নিয়মে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন। স্থায়ী কর্মীদের মতো তাঁরাও এখন থেকে ছুটি, বিমা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি গ্র্যাচুইটির ভাগীদার হবেন।
একনজরে নতুন নিয়ম:
-
সময়সীমা: ৫ বছরের বদলে মাত্র ১ বছর।
-
সেটলমেন্ট: ইস্তফার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা মেটাতে হবে।
-
বেতন: বেসিক স্যালারি CTC-র অন্তত ৫০% হতে হবে।
-
অস্থায়ী কর্মী: ফিক্সড টার্ম কর্মীরাও পাবেন স্থায়ী কর্মীদের মতো সুযোগ।