জমি কেলেঙ্কারিতে সোনা পাপ্পুকে ইডির তলব! দুষ্কৃতী তালিকায় নাম না থাকায় কসবা থানার ওসির ওপর পড়ল কোপ!

লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বাংলায় অপরাধ দমনে চরম আক্রমণাত্মক মেজাজে নির্বাচন কমিশন। একদিকে যেমন জমি কেলেঙ্কারি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তলব করল বিতর্কিত প্রভাবশালী ‘সোনা পাপ্পু’ ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে, তেমনই পুলিশের গাফিলতি ধরা পড়তেই কড়া দাওয়াই দিল কমিশন। সাসপেন্ড করা হলো কসবা থানার ওসি-কে।

সিজিও কমপ্লেক্সে ডাক পড়ল সোনা পাপ্পুর:

জমি কেলেঙ্কারির তদন্তে সোনা পাপ্পুর নাম জড়াতেই সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের মুখে এই তলব সোনা পাপ্পুর জন্য বড়সড় অস্বস্তি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ওসির ওপর কমিশনের খড়্গ:

আসল বিতর্ক দানা বেঁধেছে অপরাধীদের তালিকা নিয়ে। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, প্রতিটি থানার দাগী ও সক্রিয় অপরাধীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। কিন্তু কসবা থানার সক্রিয় অপরাধীদের তালিকায় সোনা পাপ্পুর নাম ছিল না! এই মারাত্মক গাফিলতি নজরে আসতেই কসবা থানার ওসি-কে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের ১৬ দফা কড়া নির্দেশ:

ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে কমিশন:

  • ১০ দিনের ডেডলাইন: কোনো জামিন অযোগ্য পরোয়ানা ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।

  • পলাতক তালিকা: চিহ্নিত করতে হবে সেই সব ‘গুন্ডা’দের, যারা অতীতে ভোটপ্রক্রিয়ায় অশান্তি পাকিয়েছে।

  • লুকআউট সার্কুলার: প্রয়োজনে দাগী আসামিদের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারির নির্দেশ।

নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অপরাধ দমনে কোনো রকম আপস করা হবে না। একদিকে ইডির সাঁড়াশি চাপ, আর অন্যদিকে কমিশনের এই প্রশাসনিক রদবদল—সব মিলিয়ে ভোটের আগে সরগরম কলকাতা।