কালিয়াচক কাণ্ডে নয়া মোড়! ১৫০ জনকে ম্যারাথন জেরা শেষে রিপোর্ট জমা দিচ্ছে NIA, ফাঁস হবে বড় ষড়যন্ত্র?

মালদহের কালিয়াচকে জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারকদের বন্দি করে রাখার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র তদন্ত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। রবিবার তদন্তের তৃতীয় দিনে কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক এলাকায় দফায় দফায় জেরা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালালেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্ত পর্ব শেষ করে আজই কলকাতায় ফিরছে এনআইএ-র বিশেষ দল এবং সোমবারই তারা এই ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করতে চলেছে।

তদন্তের জালে ১৫০ জন: গত তিন দিনে কালিয়াচক কাণ্ডে অন্তত ১৫০ জনের বেশি মানুষকে তলব করে জেরা করেছে এনআইএ। এর মধ্যে গ্রামবাসীদের পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারাও রয়েছেন। রবিবার সকালেই কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক দপ্তরে তলব করা হয়েছিল মালদহের অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) অনিন্দ্র সরকারকে। ঘটনার দিন প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিচারকের জবানবন্দি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য: তদন্তের স্বার্থে এনআইএ-র একটি টিম কলকাতায় আক্রান্ত এক বিচারকের বাড়িতেও পৌঁছেছিল। তাঁর পাইলট কার বা নিরাপত্তা প্রদানকারী গাড়িটিকে কোথায় আটকানো হয়েছিল, কতজনের উন্মত্ত জনতা সেখানে উপস্থিত ছিল এবং সেই সময় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল—সেসব খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা। মূলত ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ পড়ার (SIR প্রক্রিয়া) প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কীভাবে হিংসাত্মক রূপ নিল এবং সাতজন বিচারককে (যাঁদের মধ্যে ৩ জন মহিলা) ৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হলো, তার নেপথ্যে কোনো সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

পলাতক ১৯ নম্বর অভিযুক্ত জালে: এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহজাহান আলি-সহ ১৮ জনকে আগেই ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। তবে ১৯ নম্বর অভিযুক্ত মোফাক্কারুল ইসলাম বাগডোগরা বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় সিআইডি-র হাতে ধরা পড়ে। এনআইএ মনে করছে, ধৃতদের জেরা এবং সংগৃহীত তথ্য থেকে সোমবারের রিপোর্টে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে পারে, যা মালদহের এই হিংসাত্মক ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।