ইরান বনাম আমেরিকা সম্মুখ সমর! নিখোঁজ পাইলটকে পেতে ড্রাগন-ফায়ার অপারেশন পেন্টাগনের!

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরুভূমি আর দুর্গম পাহাড় এখন রণক্ষেত্র। ইরানি গোলন্দাজ বাহিনীর নিখুঁত নিশানায় ভূপাতিত হয়েছিল আমেরিকার গর্ব এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝখান থেকেই শুরু হলো এক অবিশ্বাস্য বেঁচে থাকার লড়াই। গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ থাকা মার্কিন বিমান সেনাকে অবশেষে উদ্ধার করেছে আমেরিকা। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই খবর নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ‘দুঃসাহসিক’ উদ্ধার অভিযান বলে অভিহিত করেছেন।

কি ঘটেছিল সেই পাহাড়ি এলাকায়? গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিকে ভূপাতিত করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিমানে থাকা পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ ছিলেন দ্বিতীয় ক্রু সদস্য, যিনি একজন সম্মানিত কর্নেল পদমর্যাদার অফিসার। ইরান ঘোষণা করেছিল, ওই সেনাকে জীবিত ধরতে পারলে ৬৬ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। শুরু হয় চোর-পুলিশ খেলা। একদিকে ইরানি কমান্ডো ও স্থানীয় যাযাবরদের চিরুনি তল্লাশি, অন্যদিকে মার্কিন স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দাদের হন্যে হয়ে খোঁজা।

সিআইএ-র ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ও বিভ্রান্তিকর চাল: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এই অভিযানে এক অভাবনীয় চাল চালেন। তারা ভুল খবর ছড়িয়ে দেয় যে, নিখোঁজ সেনাকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করে ইরানি সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়েছে। এই বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ফলে ইরানি বাহিনীর নজর সরে যায়, আর সেই সুযোগেই ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (CSAR) টিম কাজ শুরু করে। দুর্গম পাহাড়ের একটি গুহায় ওই কর্নেল দুদিন লুকিয়ে ছিলেন, যেখানে ইরানি বাহিনী তার প্রায় কয়েকশ মিটারের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছিল।

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান: উদ্ধার অভিযানটি মোটেই সহজ ছিল না। পেন্টাগন সূত্রে খবর, কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকশ মার্কিন সেনা এই অপারেশনে অংশ নেন। অভিযান চলাকালে মার্কিন ও ইরানি সেনাদের মধ্যে সরাসরি বন্দুকযুদ্ধ হয়। তেহরানের দাবি, তারা আমেরিকার দুটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। তবে ওয়াশিংটন বলছে, বিমানগুলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উড়তে না পারায় শত্রুর হাতে পড়া ঠেকাতে তারা নিজেরাই সেগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। এই হামলায় ইরানি বেশ কয়েকজন নাগরিক ও সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বর্তমানে উদ্ধারকৃত মার্কিন কর্নেল নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। যদিও তিনি আহত, তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার পারদকে এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।