“তৃণমূল জমানায় আইনের জানাজা বেরোচ্ছে! কালিয়াচক কাণ্ডে কোচবিহার থেকে রণহুঙ্কার মোদীর!”

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদার কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখা এবং তাঁদের কনভয়ে হামলার ঘটনাকে হাতিয়ার করে তিনি দাবি করলেন, বাংলায় এখন আইনের শাসনের ‘জানাজা’ বেরোচ্ছে।

‘নির্মম মহাজঙ্গলরাজ’ কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে রাজ্যে খোদ বিচারকরাই সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষ ন্যায় পাবে কীভাবে?” তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘নির্মম মহাজঙ্গলরাজ’ বলে অভিহিত করেন। মোদীর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার কেবল সাধারণ মানুষের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ নয়, তারা সুপরিকল্পিতভাবে সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর গলা টিপে ধরছে।

পাপের ঘড়া ও দুর্নীতির হিসাব তৃণমূলের শাসনকালকে আক্রমণ করে মোদী সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, “তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।” নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সিন্ডিকেট রাজ— সবকিছুরই হিসাব নির্বাচনের পর নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, শাসক দল এতটাই মরিয়া যে তারা অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে ‘সিআইআর’ (SIR)-এর বিরোধিতা করছে, অথচ শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সিএএ-র পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কৃষক ও নারী নিরাপত্তা নিয়ে তোপ উত্তরবঙ্গের আলু চাষিদের দুর্দশা নিয়েও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কোল্ড স্টোরেজের অভাব এবং সরকারি উদাসীনতার কারণে কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। পাশাপাশি, বাংলাকে ‘শক্তির আরাধনার পুণ্যভূমি’ উল্লেখ করে তিনি নারীদের মর্যাদা রক্ষায় বিজেপির সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভোটের দিন রুখে দাঁড়ানোর ডাক প্রধানমন্ত্রী কোচবিহারের মঞ্চ থেকে সাফ জানান, ভোটের দিন তৃণমূল ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে ভয় না পেয়ে আইনের ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেন তিনি। মোদীর কথায়, “বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে, তৃণমূলের বিদায় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”