“বাংলায় আরও পোলিং স্টেশন বাড়াল কমিশন”-জেনেনিন কেন এই নয়া সিদ্ধান্ত?

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের স্বস্তি দিতে একগুচ্ছ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। এবার আর তপ্ত রোদে বুথের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ঘামতে হবে না। ভিড় কমাতে রাজ্যজুড়ে ৪ হাজার ৬৬০টি সহায়ক ভোটকেন্দ্র (অক্সিলারি পোলিং স্টেশন) তৈরির নির্দেশ দিল কমিশন। এর ফলে রাজ্যে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৫ হাজার ৩৭৯টি।

বুথে ভিড় কমাতে মাস্টারপ্ল্যান

কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও নির্দিষ্ট বুথে ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেলেই সেখানে অতিরিক্ত একটি সহায়ক বুথ তৈরি করা হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই নতুন বুথগুলি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ভোটারদের জন্য ৫টি বড় চমক:

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবার ভোটারদের জন্য বেশ কিছু আধুনিক ও আরামদায়ক পরিষেবার কথা জানিয়েছেন:

  • রঙিন ইভিএম (EVM): এবার ইভিএম মেশিনে প্রার্থীদের সাদাকালো ছবির বদলে রঙিন ছবি থাকবে। এতে বয়স্ক ও সাধারণ ভোটারদের প্রার্থী চিনতে অনেক সুবিধা হবে।

  • মোবাইল নিয়ে সতর্কতা: বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকা কড়াভাবে নিষিদ্ধ। তবে ভোটারদের সুবিধার্থে বুথের বাইরেই ফোন রাখার নিরাপদ জায়গা তৈরি করা হবে।

  • বাড়িতে বসেই ভোট: ৮৫ বছরের বেশি বয়স্ক নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা চাইলে বাড়ি বসেই ভোট দিতে পারবেন। তাঁদের আর কষ্ট করে বুথে আসতে হবে না।

  • সিঁড়ি ভাঙার দিন শেষ: এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র হবে শুধুমাত্র একতলায় (Ground Floor)। প্রবীণ বা অসুস্থ ভোটারদের যাতে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে না হয়, তা নিশ্চিত করছে কমিশন।

  • বুথে ন্যূনতম পরিষেবা: প্রতিটি কেন্দ্রে পরিষ্কার টয়লেট এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভোটের নির্ঘণ্ট এক নজরে

পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়:

  • প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল

  • দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল

  • ফলাফল ঘোষণা: ৪ মে

কমিশনের এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ভোটদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং সহজতর হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই ভোট দিতে যাওয়ার আগে আপনার এলাকার নতুন বুথটি কোথায় হয়েছে, তা একবার যাচাই করে নিতে ভুলবেন না!