“চাকরি ছাড়লেই মাত্র ২ দিনে হাতে আসবে বকেয়া টাকা!”-নয়া শ্রম আইনে বিরাট স্বস্তি কর্মীদের!

আপনি কি চাকরি পরিবর্তনের কথা ভাবছেন? কিংবা সম্প্রতি ইস্তফা দিয়েছেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে দুর্দান্ত সুখবর। ভারতে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে লাগু হয়ে গিয়েছে নয়া শ্রম আইন (New Labour Law)। আর এই নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে চলেছেন বেতনভুক কর্মীরা। এখন থেকে ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল সেটেলমেন্ট’ বা FNF-এর জন্য মাসের পর মাস আর অফিসের দরজায় দরজায় ঘুরতে হবে না।

মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় কেল্লাফতে!

এতদিন কোনও সংস্থা থেকে ইস্তফা দিলে বা চাকরি চলে গেলে বকেয়া পাওনা বুঝে পেতে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ দিন সময় লাগত। কিন্তু ২০১৯ সালের ‘কোড অব ওয়েজেস’-এর অধীনে আসা নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও সংস্থাকে কর্মীর ইস্তফা বা ছাঁটাইয়ের মাত্র ২ দিনের (৪৮ ঘণ্টা) মধ্যে সমস্ত পাওনা গণ্ডা মিটিয়ে দিতে হবে।

কী কী থাকছে আপনার FNF প্যাকেজে?

নতুন আইন অনুযায়ী, সেটেলমেন্টের সময় নিচের টাকাগুলো বুঝে পাবেন কর্মীরা:

  • শেষ মাসের বেতন: ওই মাসে যত দিন কাজ করেছেন, তার আনুপাতিক মাইনে।

  • ছুটির টাকা (Leave Encashment): আপনার অ্যাকাউন্টে জমা থাকা বাড়তি ছুটির বিনিময়ে প্রাপ্য টাকা।

  • বোনাস ও ইনসেন্টিভ: পারফরম্যান্স বোনাস বা বকেয়া ইনসেন্টিভ।

  • রিইমবার্সমেন্ট: অফিসের কাজে যাতায়াত বা অন্যান্য খরচের বকেয়া টাকা।

  • তবে মাথায় রাখবেন, অফিসের কোনো ল্যাপটপ বা সম্পদ আপনার কাছে থাকলে তার দাম বা বকেয়া লোন এই টাকা থেকে কেটে নেওয়া হতে পারে।

গ্র্যাচুইটির নিয়মেও বড় ধামাকা!

আগে গ্র্যাচুইটি পেতে গেলে অন্তত ৫ বছর একটানা কাজ করতে হতো। কিন্তু নয়া শ্রম আইনে সেই নিয়মেও এসেছে আমূল বদল। এখন থেকে মাত্র ১ বছর কাজ করলেই গ্র্যাচুইটির সুবিধা পাওয়া যাবে। চাকরি ছাড়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই গ্র্যাচুইটির টাকা কর্মীর হাতে তুলে দিতে বাধ্য থাকবে সংস্থা।

বিশেষজ্ঞদের মত

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম লাগু হওয়ায় কর্মীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে যারা ইএমআই (EMI) দেন বা হুট করে চাকরি হারান, তাঁদের জন্য এই ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন লাইফলাইনের মতো কাজ করবে।

নয়া শ্রম আইনের এই যুগান্তকারী বদল আপনার কর্মজীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে? কমেন্ট করে আমাদের জানান!