“ভারতের সংবিধান সাজিয়েছিলেন দাদু, আর নাতির নামই কাটা ভোটার লিস্টে?”- শান্তিনিকেতনে তুলকালাম!

ভারতের শিল্পকলার প্রবাদপ্রতিম পুরুষ নন্দলাল বসুর নাম জড়িয়ে আছে এ দেশের সংবিধানের অলঙ্করণের সঙ্গে। কিন্তু আজ সেই পরিবারেরই সদস্যদের অস্তিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে ভোটার তালিকায়। শান্তিনিকেতনে বসবাসকারী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন।

সব নথি দিয়েও ব্রাত্য ৮৮ বছরের বৃদ্ধ!

সুপ্রবুদ্ধ সেনের বয়স এখন ৮৮, স্ত্রী দীপা সেন ৮২। যমুনা সেনের পুত্র সুপ্রবুদ্ধবাবু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী এবং দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের প্রাক্তন উচ্চপদস্থ আধিকারিক। ১৯৯৬ সালে অবসর নেওয়ার পর থেকে তাঁরা শান্তিনিকেতনেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাঁদের অভিযোগ:

  • সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি (পাসপোর্ট, পেনশন পেপার, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ) জমা দেওয়া হয়েছিল।

  • নির্বাচন আধিকারিকরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করে এসেছিলেন।

  • তবুও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম নেই!

ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত সুপ্রবুদ্ধবাবু জানিয়েছেন,

“আমি আর ভোট দেব না। জীবনে বহুবার দিয়েছি, তাই আর অনুশোচনা নেই। কিন্তু এই বয়সে এসে এমন হেনস্থা কাম্য ছিল না।”

শুধু তাঁরাই নন, তাঁদের সঙ্গে ৫২ বছর ধরে থাকা পরিচারক চক্রধর নায়েকের নামও তালিকা থেকে উধাও!

প্রশ্নের মুখে এসআইআর প্রক্রিয়া

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। শান্তিনিকেতনের মতো ঐতিহ্যবাহী জায়গায় নন্দলাল বসুর পরিবারের সঙ্গে এমন ঘটনায় জেলা প্রশাসনের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। শ্রীনিকেতনের বিডিও অর্পিতা চৌধুরী জানিয়েছেন, কেন নাম বাদ গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা চাইলে নবগঠিত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন।

সংবিধান অলঙ্করণ ও ঐতিহ্যবাহী পরিবার

জওহরলাল নেহরুর বিশেষ অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় শিষ্য নন্দলাল বসুই তাঁর দলবল নিয়ে ভারতীয় সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপি অলঙ্করণ করেছিলেন। সেই পরিবারের উত্তরসূরিদের নামই যখন দেশ গড়ার প্রধান হাতিয়ার অর্থাৎ ‘ভোটার তালিকা’ থেকে বাদ পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

শান্তিনিকেতনের বাসিন্দাদের মতে, এটি কেবল একটি যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ঐতিহ্যের প্রতি চরম অবহেলা। এখন দেখার, কমিশন এই ভুল শুধরে নেওয়ার কোনও বিশেষ পদক্ষেপ নেয় কি না।