ছেলের শেষকৃত্য চলছে, আর অন্য শরীরে ধুকপুক করছে তাঁরই হৃৎপিণ্ড! চিকিৎসক বাবার এই ত্যাগ চোখে জল আনবে

আহমেদাবাদের চিকিৎসক রবি আকবরির ১৭ বছরের ছেলে কৃষ ছিল দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র। গত ২৮ মার্চ বাইক নিয়ে পড়তে যাওয়ার সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে যায়। একটি মিনি ট্রাকের হর্নে ভয় পেয়ে একটি নীলগাই হঠাৎ ডিভাইডার টপকে কৃষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই ধাক্কায় মাথায় ও মুখে গুরুতর চোট পায় কিশোর কৃষ। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ২৯ মার্চ তাকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করা হয়।

পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. আকবরি জানতেন, তাঁর আদরের সন্তান আর ফিরবে না। শোকের পাহাড় মাথায় নিয়েও তিনি ও তাঁর স্ত্রী এক কঠিন কিন্তু মহৎ সিদ্ধান্ত নেন—কৃষের অঙ্গদান। ডা. আকবরি বলেন, “যখন জানলাম ওকে ফেরানো অসম্ভব, তখন ভাবলাম ওর মাধ্যমেই যেন অন্যেরা জীবন পায়।” কৃষের হৃৎপিণ্ড দান করা হয় ভাবনগরের এক ১৩ বছরের কিশোরকে। অবাক করা বিষয় হলো, যখন শ্মশানে কৃষের শেষকৃত্য চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই অপারেশন থিয়েটারে ওই কিশোরের শরীরে কৃষের হৃৎপিণ্ড স্পন্দিত হতে শুরু করে।

কৃষের অঙ্গদানের মাধ্যমে মোট ৬ জন নতুন জীবন পেয়েছেন। তাঁর ফুসফুস দেওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের এক ২২ বছরের যুবককে, দুটি কিডনি পেয়েছেন দুই কিশোর, কর্নিয়া দান করা হয়েছে দৃষ্টিহীন একজনকে এবং তাঁর হাত প্রতিস্থাপিত হয়েছে ফরিদাবাদের এক ব্যক্তির শরীরে। বেসরকারি ক্ষেত্রে এটিই প্রথম হাত প্রতিস্থাপনের ঘটনা। শোকাতুর পিতা ডা. আকবরি এখন একটাই আর্জি জানাচ্ছেন—বন্যজন্তুর কারণে এমন দুর্ঘটনা রুখতে সরকার যেন ব্যবস্থা নেয় এবং মানুষ যেন অঙ্গদানের গুরুত্ব বোঝেন।