EC-পাঠাচ্ছে তামিলনাড়ু, কমিশনের কাছে অব্যাহতি চাইলেন IPS সুপ্রতিম সরকার

প্রাক্তন কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে এবার তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ ঘিরে নতুন করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই নতুন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

কেন এই সংঘাত?

সুপ্রতিম সরকারের কলকাতা পুলিশ কমিশনার হিসেবে কার্যকাল ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। গত ৩০ জানুয়ারি তিনি দায়িত্ব নিলেও, ১৬ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই কমিশন তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়। পরে রাজ্য সরকার তাঁকে সিআইডি (CID) প্রধান হিসেবে নিয়োগ করে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১৫ জন আইপিএস আধিকারিককে ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কমিশন, যার মধ্যে সুপ্রতিম সরকারের নামও ছিল।

অব্যাহতির আবেদন ও কমিশনের দ্বিধা

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত এবং পেশাগত কারণ দেখিয়ে এই দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি চেয়েছেন সুপ্রতিম সরকার। এর আগে ১৫ জনের মধ্যে ৫ জন আধিকারিককে অব্যাহতি দেওয়া হলেও সুপ্রতিম সরকারের নাম সেই তালিকায় ছিল না। বর্তমানে তাঁর আবেদনটি কমিশনের বিবেচনাধীন।

সিআইডি-র সাফল্য ও মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থন

এদিকে, সুপ্রতিম সরকারের নেতৃত্বাধীন সিআইডি সম্প্রতি মালদায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের কড়া সমালোচনা করে বলেন:

“ওদের গ্রেফতার করল কে? সিআইডি ওদের হাতেনাতে ধরেছে। সিআইডি নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত নয়, ওরা আমাকে রিপোর্ট করে। যারা আসল অপরাধী, সিআইডি তাদেরই ধরেছে।”

কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

নবান্নের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩১ জন আইপিএস আধিকারিককে তাঁদের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। রাজ্য সরকারের দাবি, যাঁদের একবার ‘নির্বাচনী কাজের অযোগ্য’ মনে করে সরানো হয়েছে, তাঁদেরই আবার অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক করে পাঠানো কার্যত হাস্যকর ও পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত।

তামিলনাড়ুর ভোটের রণক্ষেত্রে সুপ্রতিম সরকারকে শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে কি না, এখন তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।