পকেটে শুধু টাকা থাকলেই হবে না, সোনা কিনতে লাগবে এই ৩ নথি! নিয়ম না মানলে বড় বিপদ

সোনা কেনা এখন আর কেবল শখের বিষয় নয়, এটি একটি বড় বিনিয়োগ। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জালিয়াতি এবং হলমার্কিং-এর অপব্যবহার রুখতে সোনা কেনা-বেচার নিয়মে বড়সড় বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে সোনার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আরও কঠোর ‘ট্যাগিং’ নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে সরকার প্রতিটি অলঙ্কারের জন্য HUID (Hallmark Unique Identification) কোড বাধ্যতামূলক করেছে।

কি এই HUID কোড এবং কেন এটি জরুরি?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সোনার গহনায় ৬-সংখ্যার একটি আলফানিউমেরিক ইউনিক কোড (যেমন- A2B1C4) থাকা বাধ্যতামূলক। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) জানাচ্ছে, এই কোডটি প্রতিটি গহনার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা হবে। অর্থাৎ, একটি আংটির জন্য ব্যবহৃত কোড অন্য কোনো চেইন বা নেকলেসে ব্যবহার করা যাবে না। গ্রাহকরা ‘BIS CARE’ অ্যাপের মাধ্যমে এই কোড যাচাই করে গহনার আসল বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করতে পারবেন।

সোনার হলমার্কিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হলমার্কিং হল সোনার গয়নার গুণমানের শংসাপত্র। অনেক সময় দেখা যায়, বেশি ক্যারেটের দাম নিয়ে গ্রাহককে কম ক্যারেটের সোনা দেওয়া হচ্ছে। এই জালিয়াতি রুখতেই BIS কড়া অবস্থান নিয়েছে। হলমার্কযুক্ত সোনা কিনলে গ্রাহক নিশ্চিত থাকতে পারেন যে তিনি সঠিক মূল্যে সঠিক গুণমানের পণ্য কিনছেন।

কেনাকাটার নতুন শর্তাবলি ও নথিপত্র:
সোনা কেনার ক্ষেত্রে নগদে লেনদেন এবং প্রয়োজনীয় নথির বিষয়েও কড়াকড়ি করা হয়েছে:

২ লক্ষ টাকার বেশি কেনাকাটা: প্যান (PAN) কার্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া ২ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেন নগদে (Cash) করা যাবে না।

১০ লক্ষ টাকার বেশি কেনাকাটা: প্যান কার্ডের পাশাপাশি আধার কার্ড এবং আয়ের উৎস বা আয়ের প্রমাণপত্র (Proof of Income) জমা দিতে হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা আসবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দাপট কমবে। তাই উৎসবের মরসুমে বা বিয়ের গয়না কিনতে যাওয়ার আগে অবশ্যই HUID কোড এবং হলমার্ক দেখে নিতে ভুলবেন না।