মা-সন্তানের নাড়ির টান শুধু আবেগ নয়, ধমনীতে বইছে মায়ের কোষ! অবাক করা রিপোর্ট

মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক যে কতটা গভীর, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই সম্পর্কের গভীরতা শুধু ভালোবাসা, শাসন বা আবেগের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অবিশ্বাস্য এবং রোমাঞ্চকর বৈজ্ঞানিক সত্য। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন এক তথ্য, যা প্রমাণ করে যে মা এবং সন্তান আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিস্ময়কর ঘটনাকে বলা হয় ‘মাইক্রোকাইমেরিজম’ (Microchimerism)। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীর থেকে বাহ্যিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও, কোষীয় স্তরে তারা কখনোই আলাদা হয় না। গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন প্লাসেন্টার মাধ্যমে মা ও শিশুর মধ্যে যে সংযোগ তৈরি হয়, তা কেবল পুষ্টি বা অক্সিজেন আদান-প্রদানের মাধ্যম নয়। এই সময় মায়ের শরীর থেকে কিছু জীবন্ত কোষ সন্তানের শরীরে প্রবেশ করে এবং সন্তানের শরীর থেকেও কিছু কোষ মায়ের রক্তে মিশে যায়।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই কোষগুলো কয়েক দিন বা কয়েক মাসের জন্য নয়, বরং কয়েক দশক ধরে—এমনকি সারা জীবন—শরীরের ভেতরে সক্রিয় থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, সন্তানের রক্ত, ত্বক, লিভার, হাড়ের মজ্জা এবং এমনকি মস্তিষ্কেও মায়ের কোষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

এই কোষগুলো কেবল শরীরের কোণায় পড়ে থাকে না, বরং এগুলো বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, যদি সন্তানের শরীরে কোনো ক্ষত তৈরি হয় বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে মায়ের এই কোষগুলো সেখানে পৌঁছে ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এই ‘মাদার সেল’ বা মাতৃকোষগুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাই ‘মা সব সময় আমাদের সাথে আছেন’—এই কথাটি এখন আর কেবল কোনো দার্শনিক বা আবেগপ্রবণ উক্তি নয়। এটি একটি নিখাদ বৈজ্ঞানিক বাস্তব। আপনার প্রতিটি নিঃশ্বাসে, আপনার শরীরের প্রতিটি স্পন্দনে মা আপনার ভেতরেই বেঁচে আছেন। এই অদৃশ্য অথচ শক্তিশালী বন্ধনই প্রমাণ করে যে, সৃষ্টির সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ উপহার হলো মা।