ভোটের মুখে কমিশনের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ৮৩২ জনের নিরাপত্তা ছাঁটাইয়ের কড়া নির্দেশ রাজীব কুমারকে!

লোকসভা ভোটের (সম্ভাব্য ২০২৬ উপনির্বাচন বা সাধারণ নির্বাচন প্রেক্ষাপট) নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসন ও পুলিশের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবার কমিশনের নজরে রাজ্যের ‘ভিআইপি কালচার’ এবং শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ৮৩২ জন ব্যক্তির নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য পুলিশকে বেনজিরভাবে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন।
৮৩২ জন ‘ঘনিষ্ঠ’ ও ২০০০-এর বেশি পুলিশকর্মী
নির্বাচন কমিশনের হাতে আসা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে রাজ্যে মোট ২,১৮৫ জন পুলিশকর্মী এমন ৮৩২ জন ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন, যাঁরা সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও আরও ১৪৪ জন ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই তৃণমূল সমর্থক বলে অভিযোগ। এই বিপুল সংখ্যক পুলিশবাহিনীকে ভোটের কাজে না লাগিয়ে কেন ব্যক্তিগত সুরক্ষায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে ‘গুরুতর ত্রুটি’র তকমা দিয়েছে কমিশন।
ডিজিপি-কে ৪৮-৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি)-কে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তির প্রোফাইল নিয়ে একটি “strict professional review” বা কঠোর পেশাদার পর্যালোচনা করতে হবে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—নিরাপত্তা দেওয়া হবে থ্রেট পারসেপশন বা প্রাণের ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে, কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ভিত্তিতে নয়। যাঁদের নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই, তাঁদের থেকে অবিলম্বে পুলিশ সরিয়ে ভোটের ডিউটিতে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বড় ঘোষণা
শুধুমাত্র নির্বাচনের দিন নয়, ভোটের ফল প্রকাশের পরও বাংলা কাঁপবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের শব্দে। কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়া মিটে যাওয়ার পরও রাজ্যে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPFs) মোতায়েন থাকবে। পরিস্থিতি বুঝে আরও ২০০ কোম্পানি অতিরিক্ত বাহিনী যোগ করা হতে পারে। মূলত ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল
প্রশাসনিক মহলের মতে, কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে জেলাস্তরের বহু নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা কবচ হাতছাড়া হতে চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন পুলিশের অভাব মিটবে, অন্যদিকে তেমনই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। এখন দেখার, কমিশনের বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে রাজ্য পুলিশ কতজনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে।