খড়গপুরে দিলীপ-ঝড়! শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে মনোনয়ন পেশে নামছেন ‘দাদা’, লক্ষ্য কি ১ লক্ষের মার্জিন?

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ খড়গপুর সদর কেন্দ্রে নিজের রণকৌশল সাজাতে ময়দানে নামছেন বিজেপির বর্ষীয়ান হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র এবং খড়গপুরের প্রাক্তন বিধায়কের মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে আজ কার্যত উৎসবের মেজাজ পদ্ম শিবিরে। খড়গপুর শহর আজ গেরুয়া আবহে মুড়ে ফেলার প্রস্তুতি সারা।
রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু যাত্রা
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ বেলা দশটা নাগাদ খড়গপুর রাম মন্দির থেকে আশীর্বাদ নিয়ে নিজের কর্মসূচি শুরু করবেন দিলীপ ঘোষ। সেখান থেকেই শুরু হবে বিশাল এক মিছিল। গোলবাজার হয়ে এই মিছিল পৌঁছবে খড়গপুর মহকুমা শাসকের দফতরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মিছিলের জনসমাগমই বলে দেবে খড়গপুরের রাজনৈতিক হাওয়া কোন দিকে বইছে।
সঙ্গী শুভেন্দু ও দিল্লির হেভিওয়েট
দিলীপ ঘোষের এই মনোনয়ন পেশের আসরকে আরও বর্ণময় করে তুলতে আজ খড়গপুরে থাকছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির হেভিওয়েট নেত্রী রেখা গুপ্তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। গত সোমবার ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দুর মনোনয়নে খোদ অমিত শাহ উপস্থিত থেকে চমক দিয়েছিলেন, আজ খড়গপুরেও সেই একই উন্মাদনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
ইতিহাস ও চ্যালেঞ্জ
২০১৬ সালে এই খড়গপুর সদর থেকেই বাংলার বিধানসভায় খাতা খুলেছিল বিজেপি। তৎকালীন প্রদেশ সভাপতি দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের রামা প্রসাদ তিওয়ারিকে ২৭,৩৬০ ভোটে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন রাজ্যকে। তবে ২০১৯-এ তিনি মেদিনীপুর থেকে সাংসদ হওয়ার পর উপনির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয়। যদিও একুশের নির্বাচনে বিজেপি ফের এই আসনটি পুনরুদ্ধার করে। এবার দিলীপ ঘোষের কাছে এটি শুধুই নির্বাচন নয়, বরং নিজের গড় ফিরে পাওয়ার এক ‘প্রেস্টিজ ফাইট’।
দিলীপের হুঙ্কার ও লক্ষ্য
মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই নিজস্ব মেজাজে ধরা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, “খড়গপুর সদরের মোট আড়াই লক্ষ ভোটারের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট এবার আমার ঝুলিতে আসবে। ১ লক্ষের মার্জিনে জেতাই আমার লক্ষ্য।” বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় এবং উন্মাদনা দেখে স্পষ্ট যে, আজ খড়গপুর সদর কেন্দ্রে এক ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। এখন দেখার, ইভিএমে দিলীপের এই আত্মবিশ্বাস কতটা প্রতিফলিত হয়।