“ভোট দেবেন সবাই, চিন্তা নেই!” -ভোটার তালিকায় নাম কাটা নিয়ে গর্জে উঠলেন অভিষেক

লোকসভা নির্বাচনের মুখে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এখন সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম ‘ডিলিটেড ভোটার’। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম না দেখে রাজ্যের জেলায় জেলায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শুক্রবার হুগলির খানাকুলে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় এই বিক্ষোভের আঁচ এসে পড়ল খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।

🛡️ “সবাই এ দেশের নাগরিক, ভোট দেবেন সবাই”

খানাকুলের সভা শেষ করে মঞ্চ ছাড়ার সময় একদল ভোটার অভিষেকের পথ আটকে তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগ জানান। তাঁদের আশ্বস্ত করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আপনারা সবাই এ দেশের নাগরিক। আগে যেভাবে ভোট দিয়েছিলেন, এবারও সেভাবেই দেবেন। কোনো চিন্তা করবেন না।”

হুগলির চুঁচুড়া, পুরশুড়া, আরামবাগ ও খানাকুল এলাকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চুঁচুড়া স্টেডিয়ামের ট্রাইব্যুনালে প্রতিদিন জমা হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের ভিড়।

📋 তৃণমূলের বিশেষ ‘ইলেক্টোরাল সুপারভাইজ়ার’

বিপুল এই সমস্যা সমাধানে দলীয় স্তরে একগুচ্ছ পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন অভিষেক। তিনি জানান:

  • প্রতিটি পঞ্চায়েতে একজন করে ‘পঞ্চায়েত ইলেক্টোরাল সুপারভাইজ়ার’ নিয়োগ করা হয়েছে।

  • ব্লকে ব্লকে থাকছেন ‘ব্লক সুপারভাইজ়ার’

  • যাঁদের নাম গায়ের জোরে কাটা হয়েছে, তাঁদের হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেই ট্রাইব্যুনালে আপিল করবে।

⚖️ সুপ্রিম কোর্টে নজর ও বিজেপিকে আক্রমণ

SIR (সার্ভিস ভোটার) সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে। অভিষেক মনে করিয়ে দেন, আদালত ও রাজপথে এই লড়াই জারি থাকবে। ভোটারদের হয়রানির জন্য বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যদি কেউ জোর জবরদস্তি নাম কাটে, তবে বিজেপির কোনো নেতা প্রচারে এলে তাঁদের একটু ভালো করে ‘শান্তিপূর্ণ অতিথি আপ্যায়ন’ করে দেবেন।”

📱 এক্স হ্যান্ডেলে কড়া বার্তা

মালদার মোথাবাড়ির অশান্তি এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের একযোগে নিশানা করেছেন অভিষেক। নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “বিজেপি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। অন্যদিকে সিপিএম-কংগ্রেস এবং আইএসএফ-এর মতো দলগুলো ভোট ভাগ করে বাংলা-বিরোধী শক্তিকে সুবিধা করে দিচ্ছে।”