পিপিএফ-এ বিনিয়োগ করবেন? ৫ই এপ্রিলের আগে টাকা জমা দিলেই কেল্লাফতে! জানুন বাড়তি ৩ লক্ষ আয়ের গোপন ট্রিক

আপনি কি পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF)-এ বিনিয়োগ করেন? তবে আপনার জন্য আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের শুরুতেই একটি ছোট্ট সিদ্ধান্ত আপনার দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ে নিঃশব্দে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত যোগ করতে পারে। আর তার জন্য আপনাকে বিনিয়োগ সারতে হবে আগামী ৫ই এপ্রিলের মধ্যে।
কেন ৫ই এপ্রিল তারিখটি এত ভাইটাল? পিপিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, সুদের হিসেব করা হয় প্রতি মাসের ৫ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে থাকা ‘সর্বনিম্ন ব্যালেন্স’-এর ওপর ভিত্তি করে।
-
সুবিধা: আপনি যদি ১ থেকে ৫ই এপ্রিলের মধ্যে টাকা জমা দেন, তবে ওই টাকার ওপর পুরো এপ্রিল মাসের সুদ পাবেন। অর্থাৎ পুরো ১২ মাসই আপনার টাকা সুদ কামাবে।
-
অসুবিধা: যদি ৫ই এপ্রিলের পরে (যেমন ৬ই এপ্রিল) টাকা জমা দেন, তবে এপ্রিল মাসের সুদ আপনি পাবেন না। আপনার সুদের হিসেব শুরু হবে মে মাস থেকে। অর্থাৎ এক মাসের সুদ থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন।
হিসাবের খতিয়ান: সামান্য ভুলে বড় লোকসান! ধরা যাক, আপনি বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। বর্তমানে সুদের হার ৭.১ শতাংশ।
-
৫ই এপ্রিলের আগে জমা দিলে: এক বছরে সুদ পাবেন প্রায় ১০,৬৫০ টাকা।
-
৫ই এপ্রিলের পরে জমা দিলে: সুদ পাবেন মাত্র ১১ মাসের জন্য, যা প্রায় ৯,৭৬৩ টাকা।
আপাতদৃষ্টিতে এই ৮৮৭ টাকার পার্থক্য ছোট মনে হলেও, পিপিএফ-এর ১৫ বছরের মেয়াদে ‘চক্রবৃদ্ধি সুদের’ (Compounding) প্রভাবে এটি বিশাল আকার ধারণ করে।
১৫ বছরে ৩ লক্ষ টাকার তফাত! বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর এপ্রিলের শুরুতেই (৫ তারিখের আগে) ১.৫ লক্ষ টাকা করে জমা দিলে ১৫ বছর পর আপনার মোট তহবিল দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪০.৬৮ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি বছর দেরি করে টাকা জমা দিলে সেই অঙ্ক কমে দাঁড়াতে পারে ৩৭.৮০ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ, শুধুমাত্র জমার সময়ের হেরফেরে আপনার প্রায় ২.৯ লক্ষ টাকা লোকসান হতে পারে!
এডিটরস নোট: পিপিএফ মানেই দীর্ঘমেয়াদী এবং নিরাপদ বিনিয়োগ। আর এই বিনিয়োগে কম্পাউন্ডিং-এর পুরো সুবিধা নিতে হলে ৫ই এপ্রিলের সময়সীমা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। যারা একবারে বড় অঙ্ক জমা দিতে পারছেন না, তাঁরাও মাসের ৫ তারিখের মধ্যে মাসিক কিস্তি জমা দিয়ে মুনাফা বাড়াতে পারেন।