LPG না PNG, রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে কোনটা সস্তা? জেনেনিন এক নজরে

প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে রান্নার গ্যাসের খরচ একটি বড় অংশ। বর্তমানে ভারতে মূলত দুই ধরনের গ্যাস ব্যবহৃত হয়— চিরাচরিত LPG (সিলিন্ডার) এবং আধুনিক PNG (পাইপলাইন)। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহে যখন জ্বালানির জোগানে টান পড়েছে, তখন সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন— কোন গ্যাসে রান্না করলে খরচ সবচেয়ে কম হবে?

🔥 LPG বনাম PNG: দামের লড়াই

হিসেব বলছে, সরাসরি তুলনা করলে LPG-র চেয়ে PNG কিছুটা সস্তা। কীভাবে? দেখে নিন নিচের ছকটি:

বিষয় LPG (সিলিন্ডার) PNG (পাইপলাইন)
ওজন/পরিমাপ ১৪.২ কেজি (প্রতি সিলিন্ডার) প্রতি SCM (কিউবিক মিটার)
গড় দাম ৯০০ – ১১০০ টাকা ৫০ – ৫৫ টাকা (প্রতি SCM)
প্রতি কেজি খরচ প্রায় ৬৮ – ৭০ টাকা প্রায় ৬০ – ৬৫ টাকা

সাশ্রয় কত?

হিসেব অনুযায়ী, ১ SCM পাইপলাইনের গ্যাস প্রায় ০.৮ কেজি এলপিজি-র সমান তাপ উৎপন্ন করে। সেই হিসেবে PNG ব্যবহার করলে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫ থেকে ১০ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে এই সামান্য পার্থক্যই বাজেটে বড় পরিবর্তন আনে।

✅ সুবিধার দৌড়ে কে এগিয়ে?

দামের বাইরেও বেশ কিছু কারণে শহরগুলিতে PNG-র জনপ্রিয়তা বাড়ছে:

  • ঝামেলামুক্ত সরবরাহ: সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই, নেই বুকিং করার ঝক্কিও। পাইপলাইনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা অবিচ্ছিন্ন গ্যাস পাওয়া যায়।

  • নিরাপত্তা: PNG গ্যাস বাতাসের চেয়ে হালকা। ফলে লিক হলেও এটি দ্রুত বাতাসে মিশে যায়, যা বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

  • জায়গার সাশ্রয়: রান্নাঘরে ভারী সিলিন্ডার রাখার প্রয়োজন পড়ে না।

⚠️ সীমাবদ্ধতা কোথায়?

এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও PNG এখনও সর্বজনীন নয়। কেন?

১. প্রাপ্যতা: বড় শহরগুলোর কিছু নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া এখনও পাইপলাইন পৌঁছায়নি। গ্রামীণ ভারতের একমাত্র ভরসা এখনও সেই LPG সিলিন্ডার।

২. প্রাথমিক খরচ: প্রথমবার পাইপলাইন কানেকশন নেওয়ার জন্য একটি মোটা টাকা খরচ করতে হয়, যা অনেকের কাছেই ব্যয়বহুল মনে হতে পারে।