বিস্ফোরক ডিপো থেকে বিমানের হ্যাঙ্গার: আগুনের যম হিসেবে ড্রাগন-রোবট নামাল ভারতীয় বায়ুসেনা!

প্রতিরক্ষা খাতে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর এক নয়া জয়জয়কার। এবার ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হল দেশে তৈরি অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক রোবট। যে ভয়াবহ উত্তাপে মানুষের শরীর পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে, সেই মৃত্যুপুরীতে ঢুকে অনায়াসেই আগুন নেভাবে এই চালকবিহীন যন্ত্রমানবরা।
১২০০ ডিগ্রিতেও অক্ষত থাকবে শরীর: এই রোবটগুলোর সবচেয়ে বড় চমক হল এদের সহনক্ষমতা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই যন্ত্রগুলো প্রায় ১২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত প্রচণ্ড তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম। ফলে বিমানের জ্বালানি ডিপো বা গোলাবারুদ রাখার গুদামের মতো অতি-বিপজ্জনক এলাকায় যেখানে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের যাওয়া প্রায় অসম্ভব, সেখানে এই রোবটগুলোই হবে প্রধান ভরসা।
কেন এই রোবট বিশেষ?
-
স্মার্ট সেন্সর ও এআই: এতে রয়েছে অত্যাধুনিক সেন্সর যা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন, ধোঁয়া ও তাপ শনাক্ত করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে এটি নিজেই আগুনের উৎসের কাছে পৌঁছানোর পথ খুঁজে নেয়।
-
ডুয়াল ফাইট মোড: এই রোবটগুলো উচ্চচাপের জল এবং রাসায়নিক ফোম— দুই মাধ্যমেই আগুন নেভাতে পারদর্শী। ফলে বিমানের জ্বালানি বা রাসায়নিক অগ্নিকাণ্ডও চোখের পলকে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
-
রিমোট কন্ট্রোল: বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে নিরাপদ দূরত্বে বসে অপারেটররা একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
কোথায় মোতায়েন করা হচ্ছে? বায়ুসেনা সূত্রে খবর, এই অগ্নিনির্বাপক রোবটগুলো মূলত বিমান বাহিনীর হ্যাঙ্গার, ফুয়েল ডিপো এবং গোপন গোলাবারুদ সংরক্ষণ এলাকায় ব্যবহার করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শূন্যতে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
এডিটরস টেক: বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব দক্ষতায় এই মানের রোবট তৈরি করা ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণার মুকুটে আরও একটি উজ্জ্বল পালক যোগ করল।