ফল প্রকাশের পরও সরবে না ফৌজ! ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে বাংলায় নজিরবিহীন ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ কমিশনের

ভোট মিটলেই ব্যাগ গুছিয়ে বাহিনীর বিদায়— বাংলার চেনা এই ছবি এবার বদলাতে চলেছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরও অশান্তি আর রক্তপাত রুখতে রণং দেহি মেজাজে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ভোট-পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা মাথায় রেখে গণনা মেটার পরেও বাংলায় রেখে দেওয়া হচ্ছে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
গণনা মিটলেও থাকবে নজরদারি: আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় ভোট। ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। কিন্তু কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়ে গেলেও মাঠ ছাড়বে না সেন্ট্রাল ফোর্স। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে চলবে নিরবচ্ছিন্ন রুট মার্চ এবং ‘এরিয়া ডমিনেশন’। মূলত প্রতিশোধের রাজনীতি রুখতেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।
ইভিএম ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা: ভোটের ফল যাতে স্বচ্ছ থাকে, তার জন্য বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে কমিশন।
-
স্ট্রং রুম এবং কাউন্টিং সেন্টারের পাহারায় আলাদা করে ২০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
-
গণনা প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ বাহিনী শুধুমাত্র ইভিএম সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকবে।
ভিআইপি নিরাপত্তায় কোপ: একইসঙ্গে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছে সিইও (CEO) দফতর। জানানো হয়েছে:
-
যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে বা যারা জামিনে রয়েছেন, তাঁদের সরকারি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
-
পদমর্যাদা ছাড়াই যাঁরা বাড়তি সুরক্ষা পাচ্ছেন, তাঁদের তালিকাও তলব করা হয়েছে।
সিইও দফতর ঘেরাও কাণ্ডে কড়া পুলিশ: বিবাদী বাগে সিইও অফিস চত্বরে বিক্ষোভের ঘটনায় দুই তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু ও শচীন সিংকে নোটিস পাঠিয়েছে হেয়ার স্ট্রিট থানা। তাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করছে পুলিশ।
এডিটরস নোট: বাংলার নির্বাচনের ইতিহাসে ভোট-পরবর্তী হিংসা এক অভিশাপের মতো। এবার ৫০০ কোম্পানি বাহিনীকে মে মাস পর্যন্ত মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত আসলে সেই ট্র্যাডিশন ভাঙারই চেষ্টা। নির্বাচন কমিশন বুঝিয়ে দিল— ভোট করানোই শেষ কথা নয়, ভোট-পরবর্তী শান্তি বজায় রাখাও তাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।