১ কোটি টাকার ইনাম, ২০০ নাশকতার ছক! জেল হেফাজতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মাওবাদী তাত্ত্বিক ‘বুদ্ধ দা’

ভারতের বাম চরমপন্থী আন্দোলনের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের যবনিকা পতন ঘটল। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মাওবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক ও রণকৌশলগত প্রধান স্তম্ভ, বর্ষীয়ান সিপিআই (মাওবাদী) নেতা প্রশান্ত বসু ওরফে ‘কিষাণ দা’র প্রয়াণ হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ডের রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (রিমস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর।
কি ঘটেছিল আজ ভোরে? ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা জেলে বন্দি ছিলেন প্রশান্ত বসু। জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোররাত থেকেই তাঁর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে দেখে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে সকাল ৬টা নাগাদ তাঁকে রিমস (RIMS) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে সকাল ১০টা নাগাদ ৮২ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।
মাওবাদী সংগঠনের ‘মস্তিষ্ক’ ছিলেন এই বাঙালি: নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নম্বলা কেশব রাওয়ের পর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে গণ্য করা হতো এই বাঙালিকে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং পলিটব্যুরোর সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন পূর্ব আঞ্চলিক ব্যুরোর সম্পাদক।
“কেবল রণকৌশল নয়, দলের তাত্ত্বিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মহারাষ্ট্র— সাতটি রাজ্যে মাওবাদী কর্মকাণ্ডের মূল কারিগর ছিলেন এই ‘বুদ্ধ’ বা ‘মনীশ’।” — এমনটাই মত গোয়েন্দা মহলের।
গ্রেপ্তার ও অপরাধের খতিয়ান: ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর সরাইকেলা-খাসাওয়ান এলাকা থেকে স্ত্রী শীলা মারান্ডি-সহ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর মাথার ওপর তৎকালে ১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়-সহ একাধিক রাজ্যে অন্তত ২০০টিরও বেশি নাশকতামূলক ঘটনার নেপথ্যে সরাসরি যোগ ছিল তাঁর।
পরবর্তী পদক্ষেপ: হাই-প্রোফাইল এই বন্দির মৃত্যুর স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। পুরো ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া এবং আইনি আনুষ্ঠানিকতা কড়া নজরদারিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের মাওবাদী আন্দোলনের তাত্ত্বিক কাঠামোয় এক বিরাট শূন্যতা তৈরি হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।