১০ প্রতিজ্ঞা ও ৫ গ্যারান্টি! ২০২৬ নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে অভিষেকের তুরুপের তাস— পাকা বাড়ি ও বার্ধক্য ভাতা

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের ওপর হওয়া অত্যাচারের খতিয়ান তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীর জনসভা থেকে তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “তফসিলিদের ওপর অত্যাচারে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোই সেরা। উত্তরপ্রদেশ প্রথম, রাজস্থান দ্বিতীয় এবং মধ্যপ্রদেশ তৃতীয় স্থানে। এই নিরিখে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ পদক সবই বিজেপির প্রাপ্য।”

সোনামুখী ও ইন্দাস বিধানসভার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে অভিষেক এদিন মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করেন। রান্নার গ্যাস, পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে দুধ, শাকসবজি এবং ট্রেনের টিকিটের আকাশছোঁয়া দামের তুলনামূলক পরিসংখ্যান পেশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “মোদী সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই শূন্য পকেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছে দিচ্ছেন।”

জনসভা থেকে তৃণমূলের ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ ও পাঁচটি মূল গ্যারান্টির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন অভিষেক। তিনি ঘোষণা করেন, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে মহিলারা আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। এছাড়াও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জল, প্রতি ব্লকে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য শিবির’ এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে সরাসরি ব্যাঙ্কে বার্ধক্য ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অভিষেক আরও জানান, গরিব মানুষদের জন্য পাকা ছাদের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। নোটবন্দি ও এনআরসি-র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিজেপি গত ১০ বছর আপনাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে, এবার ২৩ তারিখ আপনারা বুথে লাইনে দাঁড়িয়ে ইভিএমে জোড়াফুলের বোতাম টিপে ওদের যোগ্য জবাব দিন।”