‘আর ভোট দেব না’, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই বড় সিদ্ধান্ত নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেনের!

ভারতের সংবিধানের পাতায় যাঁদের তুলির টান আজও অমলিন, সেই প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর পরিবারের সঙ্গেই ঘটে গেল নজিরবিহীন ঘটনা। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল শিল্পীর নাতি ও নাতবউয়ের নাম। বীরভূমের শান্তিনিকেতনে বসবাসকারী ৮৮ বছর বয়সি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর ৮২ বছর বয়সি স্ত্রী দীপা সেনের নাম ‘ডিলিটেড’ তালিকায় দেখে হতবাক খোদ শান্তিনিকেতনবাসী। প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও কেন এই বিভ্রাট, তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) পর্ব চলাকালীন। সুপ্রবুদ্ধবাবু ও দীপা দেবীর নাম প্রথমে বিচারাধীন রাখা হয়েছিল। শুনানির সময় এই প্রবীণ দম্পতি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ১৯৫৪ সালের পাঠভবনের মাধ্যমিক শংসাপত্র থেকে শুরু করে পাসপোর্ট, পেনশন স্লিপ ও ডিভিসি-র চাকরির যাবতীয় নথি। এমনকি বাড়িতে কমিশনের লোক এলে তাঁদের হাতেও তথ্য তুলে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম নেই।

আক্ষেপের সুরে নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন বলেন, “যাবতীয় নথি দিয়েছিলাম। কমিশনের লোকজন বাড়িতেও এসেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার ও আমার স্ত্রীর নাম বাদ দেওয়া হল। এমনকি বিগত ৫২ বছর ধরে আমার সঙ্গে থাকা চক্রধর নায়েকের নামও বাদ পড়েছে। এর কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না। আর ভোট দেব না, আক্ষেপও নেই।”

উল্লেখ্য, নন্দলাল বসুর ছোট মেয়ে যমুনা সেনের পুত্র সুপ্রবুদ্ধবাবু। দাদুর আঙুল ধরেই শান্তিনিকেতনে বড় হওয়া তাঁর। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারী সুপ্রবুদ্ধবাবু ৩২ বছর ডিভিসিতে চাকরি করে ১৯৯৬ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণ ছিল কর্মসূত্রে বাইরে থাকা। কিন্তু এখন দীর্ঘ বসবাসের পর সব নথি থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বির্তক দানা বেঁধেছে। ইতিপূর্বে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকেও শুনানিতে ডাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সংবিধানের অলঙ্করণ শিল্পীর পরিবারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের দিকেই আঙুল তুলছে।