সল্টলেকে ‘পঞ্চমবার’ কি সুজিত? ১০ ওয়ার্ডে পিছিয়ে থাকা তৃণমূলের এবার পাখির চোখ ‘লিড’

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সল্টলেক এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘প্রেস্টিজ ফাইট’-এর ময়দান। একদিকে টানা চারবারের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, যাঁর লক্ষ্য এবার ‘পাঞ্জা’ হাঁকানো। অন্যদিকে, লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভার অন্তর্গত ১০টি ওয়ার্ডে লিড পাওয়া চনমনে বিজেপি। সল্টলেকের অলিগলিতে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন— সুজিত কি পারবেন পঞ্চমবারের জন্য বিধাননগরের তখত ধরে রাখতে?
টানা ৪ বার বিধায়ক, লক্ষ্য এবার ‘মার্জিন’
‘সুজিত বসু পঞ্চমবার’— এই স্লোগানেই এখন ছেয়ে গিয়েছে বিধাননগরের পাড়া-মহল্লা। ২০২১-এ সব্যসাচী দত্ত বিজেপিতে থাকাকালীন প্রায় ৮ হাজার ভোটে জিতেছিলেন সুজিত। এবার সব্যসাচী তৃণমূলে ফিরলেও দলের অন্দরে চিন্তা বাড়িয়েছে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের ফলাফল। সল্টলেকের ১৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টিতেই পিছিয়ে ছিল শাসকদল। তাই এবার শুধু জয় নয়, জয়ের ব্যবধান বা লিড বাড়ানোকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সুজিত-ব্রিগেড।
পুরোদমে মাঠে কাউন্সিলাররা
লোকসভার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ব্লকে ব্লকে বৈঠক এবং ‘বাড়ি বাড়ি’ প্রচারে জোর দিচ্ছে তৃণমূল। খোদ কাউন্সিলাররা রাস্তায় নেমেছেন লিড নিশ্চিত করতে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি:
-
লোকসভা আর বিধানসভার প্রেক্ষিত আলাদা।
-
২০১৯-এ পিছিয়ে থাকলেও ২০২১-এ এই কেন্দ্র থেকে জয় এসেছিল।
-
নতুন বেইলি ব্রিজ এবং রাস্তা সংস্কারের মতো উন্নয়নমূলক কাজই হবে জয়ের চাবিকাঠি।
বিজেপির তুরুপের তাস ‘পুরনো মুখ’
অন্যদিকে, বিজেপি এবার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। গত লোকসভা নির্বাচনে সল্টলেক এলাকায় অভাবনীয় ফলের পর গেরুয়া শিবির মনে করছে, এবার বিধাননগরের দখল নেওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। বিজেপির দাবি, এবার দলীয় কোনো ‘দলবদলু’ নয়, বরং আদি ও পুরনো মুখকেই প্রার্থী করা হয়েছে, যার ফলে সংগঠনের নীচুতলার কর্মীরা অনেক বেশি চনমনে।
জমে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই
তৃণমূল যখন লিড বাড়াতে মরিয়া এবং বিজেপি জয়ের স্বপ্ন দেখছে, তখন নিঃশব্দে ঘর গোছাচ্ছে সিপিএম-ও। বামেরা গত কয়েক বছরে সল্টলেক ও বিধাননগর এলাকায় নিজেদের হারানো জমি কিছুটা ফিরে পেয়েছে। ফলে লড়াই এবার দ্বিমুখী নয়, বরং ত্রিমুখী হতে চলেছে।