পাকিস্তান ভিখারি? রান্নার গ্যাস ৩,০০০ টাকা, বাড়ছে জিনিসের দাম,দুর্ভোগে পাক জনতা

একদিকে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ ঘিরে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য, অন্যদিকে সেই আগুনের আঁচ সবথেকে বেশি টের পাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চললেও পাকিস্তানের অবস্থা এখন শোচনীয়। একদিকে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকেছে।

জ্বালানির দামে ‘আগুন’

মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে জ্বালানির দাম রেকর্ড হারে বাড়িয়েছে পাকিস্তান সরকার।

  • ডিজেল: ৫৪.৯% বৃদ্ধি পেয়ে লিটার প্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৫২০.৩৫ পাকিস্তানি রুপি

  • পেট্রোল: ৪২.৭% বৃদ্ধি পেয়ে লিটার প্রতি দাম এখন ৪৫৮.৪০ পাকিস্তানি রুপি। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক দামের কারণে পরিবহন খরচ ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছে।

রান্নাঘরে হাহাকার: ১৬০ টাকায় ১ কেজি আটা!

খাদ্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের পাতে খাবার জোটানো দায় হয়ে পড়েছে। এক নজরে দেখে নিন বর্তমান বাজার দর:

  • আটা: ১ কেজির দাম ১৬০ টাকা, ২০ কেজির বস্তা ২,০০০ টাকা (বৃদ্ধি ৩৫%)।

  • ডাল: ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫০ টাকা।

  • টমেটো: কেজি প্রতি ২৫০ টাকা।

  • আলু ও পেঁয়াজ: যথাক্রমে ৫০ ও ৮০ টাকা কেজি। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামও গত এক মাসে ২ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ডবল ঝটকা

জ্বালানি সংকটের জেরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলে নাভিশ্বাস উঠছে আমজনতার।

  • এলপিজি সিলিন্ডার: এক মাসে ৯০০ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৩,৫০০ পাকিস্তানি রুপি

  • বিদ্যুৎ: ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রতি ইউনিটে ১.৬২ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এমনিতেই এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানে বিদ্যুতের মাসুল সবথেকে বেশি, তার ওপর এই বৃদ্ধিতে অন্ধকারে ডুবেছে বহু পরিবার।

ঋণের বোঝা ও বিনিয়োগে ধস

অর্থনীতি সামাল দিতে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তান সুদের হার বাড়িয়ে ১০.৫ শতাংশ করেছে। এর ফলে গৃহঋণ বা ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে পাকিস্তানে বিদেশি বিনিয়োগও তলানিতে ঠেকেছে।

সরকারের ভূমিকা: স্বস্তি নয়, দিচ্ছে যন্ত্রণা

সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চরম সংকটে জনগণকে সাহায্য করার পরিবর্তে ভর্তুকি কমিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF) থেকে ঋণ নিশ্চিত করতে একের পর এক জনবিরোধী শর্ত মেনে নিচ্ছে ইসলামাবাদ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধাগুলো বাতিল করা হচ্ছে।