DA নিয়ে নবান্নের ‘লুকোচুরি’! বকেয়া টাকা হাতে পেয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন সরকারি কর্মীরা, বড় বিপাকে রাজ্য?

রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা DA নিয়ে টানাপোড়েন থামার লক্ষণ নেই। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করলেও, তা নিয়ে নতুন করে দানা বাঁধছে বিতর্ক। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে, অন্যদিকে সেই টাকার অঙ্ক নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। কর্মীদের অভিযোগ, প্রাপ্য টাকার তুলনায় অনেক কম টাকা দিচ্ছে সরকার।

বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ঘোষণা করেছিল যে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে এপ্রিল মাস থেকে আরও ৪% ডিএ দেওয়া হবে। কিন্তু এপ্রিলের শুরুতেও সেই নিয়ে নবান্নের নীরবতা কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল— দুই মাস কেটে গেলেও সেই বাড়তি টাকার দেখা নেই। উল্টে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ২৫% ডিএ-র যে হিসাব সরকার দিচ্ছে, তাতেও বিস্তর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দাবি সরকারি কর্মীদের। অনেকের ফোনে মেসেজ এলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছানো টাকার অঙ্কে রয়েছে আকাশ-পাতাল ফারাক।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীরা সরাসরি ‘ছলচাতুরি’র অভিযোগ আনছেন সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, পঞ্চম বেতন কমিশনের আমলের বকেয়া টাকাও এখনও অনেকে পাননি। এমতাবস্থায় বকেয়া ডিএ-র দাবিতে এবার সরাসরি কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। লড়াই যে আরও দীর্ঘ হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

তবে এরই মাঝে পেনশনভোগীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে নবান্ন। নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের বকেয়া মেটানোর কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। আগামী ১৮০ দিন বা ৬ মাসের মধ্যে পারিবারিক পেনশনভোগীসহ সকলের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু কর্মরত কর্মীদের ক্ষোভ এই ঘোষণায় কতটা প্রশমিত হবে, এখন সেটাই দেখার।