“মালদহ কাণ্ডে এবার ‘তৃণমূল যোগ’!”-সুকান্ত মজুমদারের নিশানায় বিধায়ক মোশারফ

মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ৯ ঘণ্টা বন্দি করে রাখার ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড মোফাক্কেরুল ইসলামের গ্রেফতারি ঘিরে এবার তুঙ্গে উঠল রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে এই মিম (AIMIM) নেতাকে পাকড়াও করার পরেই সরাসরি শাসকদল তৃণমূলের দিকে আঙুল তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, এই হিংসার নেপথ্যে তৃণমূলের এক প্রভাবশালী বিধায়কের যোগসূত্র থাকতে পারে।

সুকান্তর নিশানায় মোশারফ হোসেন

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “মোফাক্কেরুলের সঙ্গে ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি মোশারফ হোসেনের কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।” সুকান্তর অভিযোগ, ঘটনার পর মোফাক্কেরুল নেপাল হয়ে গা ঢাকা দেওয়ার ছক কষছিলেন। পেশায় আইনজীবী এই মিম নেতার সঙ্গে তৃণমূলের অন্দরের কোনও সমীকরণ কাজ করছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

কে এই মোশারফ হোসেন?

উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন বর্তমানে তৃণমূলের রাজনীতির অন্যতম উদীয়মান মুখ। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর যখন সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে চিন্তায় ছিল ঘাসফুল শিবির, ঠিক তখনই হাজি নুরুল ইসলামের জায়গায় তাঁকে সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি করা হয়। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মোশারফ বর্তমানে উত্তর দিনাজপুর জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। ২০২১-এর নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটে জিতে নিজের সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।

কেন উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গ ও মালদহ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর— এই তিন জেলার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ বাকি রাজ্যের থেকে আলাদা। এখানে মিম (AIMIM) বা কংগ্রেসের প্রভাব রুখতে তৃণমূল মোশারফ হোসেনের মতো তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্বকে সামনে এনেছে। কিন্তু এখন সেই জেলারই এক মিম নেতার উস্কানিমূলক আচরণের দায় তৃণমূলের ওপর চাপিয়ে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরাতে চাইছে বিজেপি, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

তদন্তের মোড় কোন দিকে?

নির্বাচন কমিশনের দাবি, মোফাক্কেরুল ইসলাম দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে ট্র্যাক করে সিআইডি গ্রেফতার করলেও, সুকান্ত মজুমদারের এই ‘তৃণমূল যোগ’-এর দাবি নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। মোফাক্কেরুলের কল লিস্ট বা তাঁর সাম্প্রতিক গতিবিধিতে কি সত্যিই কোনও শাসক নেতার নাম উঠে আসবে? এখন সেটাই দেখার।