সিঙাড়ার দাম না কি দেশ বাঁচানো? মোদী-ভয়ে সিঁটিয়ে রাঘব চাড্ডা! আপ-এর অন্দরে চরম সংঘাত

আম আদমি পার্টি (AAP) এবং রাঘব চাড্ডার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কে কি এবার ইতি পড়তে চলেছে? রাজ্যসভার উপনেতার পদ থেকে অপসারণের পর পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিয়েছে, তাতে আপ-এর অন্দরে গৃহযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। শুক্রবার দলের জাতীয় মিডিয়া প্রধান অনুরাগ ধান্দা সরাসরি রাঘবকে নিশানা করে যে আক্রমণ শানিয়েছেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ধান্দার স্পষ্ট অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই এখন ভয় পাচ্ছেন রাঘব!
অনুরাগ ধান্দা রাঘবের সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সৈনিক। নির্ভীকতাই আমাদের পরিচয়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তুমি বড্ড ভয় পাচ্ছ, রাঘব। মোদীর বিরুদ্ধে কথা বলতে বা দেশের জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে সরব হতে তোমার বুক কাঁপছে।” মোদীকে ভয় পেলে দেশের জন্য লড়াই কীভাবে সম্ভব, সেই তীক্ষ্ণ প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছেন এই আপ নেতা।
সংসদে রাঘবের ভূমিকা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে। আপ-এর বক্তব্য, সংসদে দলের জন্য বরাদ্দ সময় অত্যন্ত সীমিত। সেই অমূল্য সময় দেশের সমস্যা তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা উচিত। রাঘবকে বিঁধে অনুরাগ বলেন, “ওইটুকু সময়ে আমরা হয় দেশ বাঁচানোর লড়াই করতে পারি, আর না হলে বিমানবন্দরের ক্যান্টিনে কীভাবে সিঙাড়ার দাম কমানো যায়, তা নিয়ে সময় নষ্ট করতে পারি!”
দলের অভিযোগ, সঙ্কটের সময় রাঘবকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। গুজরাটে আপ কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের ঘটনায় তিনি নীরব ছিলেন। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দলের আনা প্রস্তাবে সই করতেও অস্বীকার করেন তিনি। যখন দলের সাংসদরা প্রতিবাদের খাতিরে ওয়াকআউট করেন, তখনও রাঘব নিজের আসনেই বসে থাকেন। রাজ্যসভার পদ হারানোর পর এই প্রকাশ্য আক্রমণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাঘব ও আপ-এর পথ হয়তো এবার আলাদা হতে চলেছে।