চিন ও আমেরিকার যুদ্ধ হবে কি শুরু? জেনেনিন পানামা খাল নিয়ে যা যা ঘটছে…?

ওয়াশিংটন/বেজিং: বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনী হিসেবে পরিচিত পানামা খালকে (Panama Canal) কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হলো বিশ্বের দুই মহাশক্তি আমেরিকা ও চীন। গত মার্চ মাস থেকে চীনের বন্দরগুলিতে পানামার পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে টার্গেট করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, তাকে ‘অর্থনৈতিক দাদাগিরি’ বা ‘বুলিং’ বলে তোপ দেগেছে হোয়াইট হাউস।

চীনের বন্দরে ‘আটক’ শতাধিক জাহাজ

সম্প্রতি মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসে তল্লাশির নামে চীন মোট ১২৪টি জাহাজ আটকে রেখেছে, যার মধ্যে ৯২টি (প্রায় ৭৫ শতাংশ) জাহাজই পানামার পতাকাবাহী। সাধারণত এই জাহাজগুলিকে ১ থেকে ১০ দিনের জন্য আটকে রাখা হচ্ছে। রুবিওর মতে, এটি কেবল পরিদর্শন নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ‘হ্যারাজমেন্ট’ বা হেনস্থা।

বিবাদের মূলে পানামা খালের দুই পোর্ট

এই উত্তেজনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারিতে। পানামার সুপ্রিম কোর্ট হংকং ভিত্তিক সংস্থা সিকে হাচিসন (CK Hutchison)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পোর্টের (বালবোয়া ও ক্রিস্টোবাল) লিজ বা চুক্তি বাতিল করে দেয়। এরপরই পানামা সরকার ওই দুটি পোর্টের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয়।

  • ট্রাম্পের দাবি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন যে, চীন গোপনে পানামা খালের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে।

  • চীনের প্রতিক্রিয়া: নিজেদের সংস্থার চুক্তি বাতিলের পর থেকেই চীন পাল্টা চাপ দিতে পানামার পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে টার্গেট করছে বলে অভিযোগ। তবে বেজিং এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে উল্টে আমেরিকাকেই ‘পানামা দখলের’ দায়ে অভিযুক্ত করেছে।

সাপ্লাই চেইনে বড় ধাক্কা ও মুদ্রাস্ফীতির ভয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানামা পতাকাবাহী জাহাজগুলি বিশ্ব বাণিজ্যের এক বিরাট অংশ বহন করে। চীনের এই ‘রিভেঞ্জ পলিটিক্স’ বা প্রতিশোধমূলক আচরণের ফলে:

  • আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।

  • জাহাজ দেরি করে পৌঁছানোর ফলে পরিবহন খরচ বাড়বে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ জিনিসের দামে।

  • নতুন করে আমেরিকা-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ (Trade War) শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পানামা সরকারের অবস্থান

দুই শক্তিধর দেশের লড়াইয়ে মাঝপথে পড়ে কার্যত দিশেহারা পানামা। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পানামার বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো দেশের পক্ষ নিয়ে নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পোর্টের চুক্তি বাতিল করেছেন।