কাশ্মীরে সেনার গুলিতে নিহত ‘জঙ্গি’ নাকি এনজিও কর্মী? গান্দেরবাল এনকাউন্টার নিয়ে তোলপাড় উপত্যকা

জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলার আরহামায় গত ১লা এপ্রিলের নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযান ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। ওই সংঘর্ষে রশিদ আহমেদ মুঘল (২৯) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়, যাকে নিরাপত্তা বাহিনী ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, রশিদ সম্পূর্ণ নিরপরাধ এবং এটি একটি সাজানো বা ‘ভুয়ো সংঘর্ষ’। এই ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এলজি কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, “আরহামার ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার জন্য তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।” এই ঘটনার পর থেকেই উপত্যকার রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ২রা এপ্রিল স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, পরিবারের দাবিকে সরাসরি উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। তিনি একটি স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ তদন্তের পাশাপাশি প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবি তোলেন। ওমর আবদুল্লার মতে, তদন্তের ফলাফলে দেরি করলে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।

অন্যদিকে, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এই ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহত রশিদ মুঘল একজন অনাথ ছিলেন এবং একটি এনজিও চালাতেন। মেহবুবার দাবি, সেনাবাহিনী প্রথমে রশিদকে ‘বিদেশি জঙ্গি’ বলে দাবি করলেও পরে তাদের বয়ান বদলে জানায় সে স্থানীয় জঙ্গি। এমনকি রশিদের মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে না দিয়ে বারামুল্লায় দাফন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। মেহবুবার প্রশ্ন, “আমাদের যুবসমাজের সঙ্গে দিনের পর দিন এমন কেন ঘটছে?” সব মিলিয়ে, ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্তের নির্দেশের পর গান্দেরবাল এনকাউন্টার এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।