“রাজনীতি এখন বিনোদন!” বিধানসভা ভোটের মুখে কলকাতায় এসে বিস্ফোরক ‘খাসমাখা’ খ্যাত দিব্যেন্দু

বলিউড থেকে ওটিটি— দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু নাড়ির টান আজও তাঁকে টেনেই আনে তিলোত্তমায়। তিনি দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য। সম্প্রতি কলকাতা শহরের বিভিন্ন ‘সিগনেচার লোকেশনে’ একটি অন্যধারার বাংলা ছবির শুটিং শেষ করলেন অভিনেতা। দীর্ঘ দিন পর নিজের শহরে, নিজের ভাষায় কাজ করতে পেরে দিব্যেন্দু যেন ফিরে গিয়েছেন তাঁর পুরনো ‘কমফর্ট জোনে’। শুটিংয়ের ফাঁকে নস্টালজিক অভিনেতা ফিরে গেলেন তাঁর ছোটবেলার ‘নবীনা’ সিনেমা হলে ছবি দেখার দিনগুলিতে।

তবে শুধু কাজ নয়, শহর কলকাতায় এসে রসনাতৃপ্তিতেও কোনও খামতি রাখেননি তিনি। কচুরি থেকে বিরিয়ানি কিংবা পার্ক স্ট্রিটের বিখ্যাত চেলো কাবাব— আদ্যোপান্ত খাদ্যরসিক দিব্যেন্দু চুটিয়ে উপভোগ করেছেন সবটাই। কিন্তু তাঁর মনে একটা আক্ষেপ থেকেই গিয়েছে। দেশজুড়ে হিন্দি ছবি বা ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে আকাশচুম্বী পরিচিতি পেলেও, বাংলা ছবিতে কেন তাঁকে সেভাবে দেখা যায় না? এর উত্তরে অভিনেতা সপাটে জানালেন, তিনি অনেক বেশি বাংলা কাজ করতে চান এবং বাংলা ছবির পরিধি আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিতে চান। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন বা ঋতুপর্ণ ঘোষদের উত্তরসূরিদের কাজ নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “আমি চাই বাংলা ছবি আবার সেই স্বর্ণযুগে ফিরে আসুক যেখানে বিশ্বদরবারে আমাদের সিনেমা সমাদৃত হত।”

সামনেই ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। শহরের রাজনৈতিক উত্তাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে একগাল হেসে বিদ্রুপের সুরে অভিনেতা বলেন, “রাজনীতি এখন নিছকই বিনোদন। একে ঘিরে এমন সব কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে যা মানুষকে আমোদ দিচ্ছে। তাই হোয়াই সো সিরিয়াস?” রাজনীতির এই গ্ল্যামারাইজেশন নিয়ে তাঁর কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। অভিনেতা স্পষ্ট জানালেন, তাঁর ভোট মুম্বই শহরে এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের মঙ্গল কামনাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। রাজনীতির চেয়ে সিনেমা আর শিল্প নিয়েই এখন মজে থাকতে চান এই প্রতিভাবান বাঙালি অভিনেতা।