সমুদ্রের নিচ থেকে কালান্তক আঘাত! নৌসেনায় আইএনএস ‘অরিধমন’, থরথরিয়ে কাঁপছে শত্রুদেশ

ভারতীয় নৌসেনার মুকুটে যুক্ত হল আরও এক শক্তিশালী পালক। শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক রহস্যময় অথচ শক্তিশালী বার্তার মাধ্যমে ভারতের তৃতীয় পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘আইএনএস অরিধমন’-এর অন্তর্ভুক্তির ইঙ্গিত দিলেন। এক্স (X) হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “এটি নিছক কোনও শব্দ নয়, এটি শক্তির প্রতীক! অরিধমন।” বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতরে এই সাবমেরিনটির আনুষ্ঠানিক কমিশনিং হওয়ার কথা। শুধু অরিধমনই নয়, এদিন নৌসেনার শক্তিবৃদ্ধি করতে যুক্ত হচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক স্টিলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি’।

কেন অরিধমনকে নিয়ে কাঁপছে শত্রুপক্ষ?
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রায় ৭,০০০ টন ওজনের এই সাবমেরিনটি ভারতের ‘অ্যাডভান্সড টেকনোলজি ভেসেল’ (ATV) প্রকল্পের তৃতীয় রূপায়ণ। এর আগে ২০১৬-তে ‘অরিহন্ত’ এবং ২০২৪-এর আগস্টে ‘অরিঘাত’ নৌসেনার শক্তি বাড়িয়েছিল। তবে অরিধমন আগের দুটির চেয়েও বড় এবং অনেক বেশি ঘাতক। এতে রয়েছে ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের তৈরি আপগ্রেডেড ৮৩ মেগাওয়াট প্রেশারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল এর লঞ্চ টিউব। অরিহন্তের তুলনায় এতে দ্বিগুণ অর্থাৎ আটটি ভার্টিকাল লঞ্চ টিউব রয়েছে, যা ৩,৫০০ কিমি পাল্লার ৮টি কে-৪ (K-4) মিসাইল অথবা ৭৫০ কিমি পাল্লার ২৪টি কে-১৫ (K-15) মিসাইল বহন করতে সক্ষম।

ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক’ ক্ষমতা:
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অরিধমন ভারতের ‘সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ বা দ্বিতীয় আঘাত হানার ক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। এর অর্থ হল, যদি কোনও শত্রু দেশ ভারতের স্থলভাগ বা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পরমাণু হামলা চালায়, তবে সমুদ্রের গভীরে ঘাপটি মেরে থাকা এই সাবমেরিন নিমেষের মধ্যে শত্রুর বুকে পাল্টা পরমাণু ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম। পাশাপাশি, এদিন যুক্ত হওয়া ‘আইএনএস তারাগিরি’ যুদ্ধজাহাজটিও রাডার ফাঁকি দিতে ও সাবমেরিন ধ্বংস করতে সিদ্ধহস্ত। অরিধমন এবং তারাগিরি— এই জোড়া ফলায় ভারত এখন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হল।