‘ইঁটের বদলে পাটকেল’! মার্কিন হামলায় ধ্বংস বি-১ সেতু, এবার উপসাগরীয় দেশগুলিকে নিশানায় ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হল। ইরানের কারাজে নির্মীয়মাণ ১৩৬ মিটার উঁচু ‘বি-১’ সেতুটি মার্কিন ও ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পর এবার পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। বৃহস্পতিবার ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ‘ইঁটের বদলে পাটকেল’ নীতি হিসেবেই দেখছেন।
সংবাদ সংস্থা ‘আনাদোলু’র রিপোর্ট অনুযায়ী, বি-১ সেতু ধ্বংসের প্রতিশোধ নিতে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ ব্রিজ, সৌদি আরব ও বাহরাইনের সংযোগকারী কিং ফাহাদ কজওয়ে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শেখ জায়েদ ও শেখ খলিফা সেতুকে নিশানায় রেখেছে ইরান। এমনকি জর্ডনের কিং হোসেন ও আবদুন সেতুর নামও এই তালিকায় রয়েছে বলে খবর। তেহরানের বার্তা স্পষ্ট—আমেরিকার সহযোগীদের ওপর হামলা চালিয়ে এই ধ্বংসলীলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস হওয়া সেতুর ছবি পোস্ট করে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “ইরানের সবথেকে বড় সেতু ধুলোয় মিশে গেল। মনে রাখবেন, আরও অনেক কিছু বাকি!” তিনি হুমকি দেন, আগামী দুই-তিন সপ্তাহ ইরান জুড়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় এই হামলা চলবে। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার পর যখন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, ঠিক তখনই দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ানো হয় বলে দাবি ইরানের। ট্রাম্পের ‘পাথুরে যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।