“আমার স্তব্ধতাকে হার ভাববেন না!”-পদ হারিয়ে কেজরিওয়ালকে তুলোধনা রাঘব চাড্ডার, আপ-এ কি এবার বড় ভাঙন?

আম আদমি পার্টি (AAP) এবং তাঁদের ‘পোস্টার বয়’ রাঘব চাড্ডার মধ্যে লড়াই এবার চরমে। রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সরাসরি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন রাঘব। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, দল পরিকল্পিতভাবে সংসদে তাঁর মুখ বন্ধ করতে চাইছে।
“জনতার কথা বলা কি অপরাধ?”
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি কড়া বার্তা দিয়ে রাঘব প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে সংসদে সওয়াল করা কি কোনও ভুল? তিনি বলেন, “পার্লামেন্টে যখনই সুযোগ পেয়েছি, আমজনতার কথা বলেছি। এয়ারপোর্টের দামি খাবার, জোম্যাটো-ব্লিঙ্কিট রাইডারদের সমস্যা বা ব্যাঙ্কের অতিরিক্ত চার্জ— এই ইস্যুগুলো কি তোলা অপরাধ? কেন আমায় স্তব্ধ করতে চাইছে দল?”
সংসদে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা!
রাঘবের দাবি অনুযায়ী, আম আদমি পার্টি রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, দলের জন্য বরাদ্দ সময়ের কোনও অংশই যেন রাঘব চাড্ডাকে বলতে দেওয়া না হয়। তাঁর বদলে অশোক মিত্তলকে ডেপুটি লিডার হিসেবে ঘোষণা করেছে আপ। এই পদক্ষেপে ব্যথিত রাঘব বলেন, “আপনারা শুনলে অবাক হবেন, আপ পার্লামেন্টকে বলেছে যেন রাঘব চাড্ডাকে বলতে না দেওয়া হয়। কিন্তু আমি তো ট্যাক্স থেকে শুরু করে টেলিকম সংস্থাগুলোর কারচুপি নিয়ে কথা বলে মানুষের উপকারই করেছি। এতে দলের কী লোকসান হলো?”
টেলিকম ও মিডল ক্লাস ইস্যু নিয়ে সরব
নিজের হয়ে সাফাই দিতে গিয়ে রাঘব মনে করিয়ে দেন, কীভাবে তিনি সংসদে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ার বিষয়গুলি তুলে ধরেছিলেন।
-
১২ মাসে কেন ১৩ বার রিচার্জ করতে হবে?
-
ডেটা রোল-ওভার সুবিধা কেন দেওয়া হচ্ছে না?
-
রিচার্জ শেষ হলেই কেন ইনকামিং বন্ধ করে দেওয়া হবে? এই প্রশ্নগুলো তুলে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। আর সেই জনপ্রিয়তাই কি দলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াল? প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
দলবদলের জল্পনা ও ভবিষ্যৎ
পরিশেষে দেশবাসীর কাছে সমর্থনের আবেদন জানিয়ে রাঘব বলেন, “আপনারা আমায় ভালোবাসা দেবেন। আমার স্তব্ধতাকে হার ভাববেন না, আমি আপনাদের জন্যই রয়েছি।” দলের সঙ্গে রাঘবের এই প্রকাশ্য সংঘাতের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে— তবে কি এবার আপ ছাড়তে চলেছেন রাঘব চাড্ডা? যদিও এই বিষয়ে তিনি এখনও স্পষ্ট কিছু জানাননি, তবে রাজ্যসভার এই ডামাডোল ২০২৬-এর জাতীয় রাজনীতিতে আম আদমি পার্টির ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।