টোল বিতর্ক উড়িয়ে মোদীকে বড় স্বস্তি দিলেন পুতিন! বিপদে ভারতের মুশকিল আসান সেই রাশিয়া

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ যখন বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে, ঠিক তখনই ‘ট্রাবলশুটার’ হিসেবে ফের অবতীর্ণ হল ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া। ইরান ও ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই চরম উত্তেজনার আবহে রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতকে আরও বেশি পরিমাণ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছেন।

পশ্চিম এশিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এই ডামাডোলের মাঝেই গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান নাকি প্রতিটি জাহাজ পিছু ২ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৮.৮ কোটি টাকা ‘টোল ফি’ দাবি করছে। ভারতকেও কি এমন বিপুল টাকা দিয়েই জ্বালানি আনতে হচ্ছে? বৃহস্পতিবার এই জল্পনা ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানের সঙ্গে টোল ফি নিয়ে ভারতের এমন কোনও আলোচনা হয়নি। অর্থাৎ, টোল দেওয়ার খবরটি নিছকই জল্পনা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রেখেছে ইরান। যদিও ভারতের মতো ‘বন্ধু দেশ’ হওয়ার সুবাদে কয়েকটি জাহাজকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, তবে তা ভারতের বিশাল চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এই কঠিন সময়েই ভ্লাদিমির পুতিন প্রশাসন ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়া শুধু তেল দেওয়ার আশ্বাসই দেয়নি, বরং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দ্রুত সরবরাহের অঙ্গীকার করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ ভারতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তুরুপের তাস হতে চলেছে।