“বিচারকরাই যখন পণবন্দি, তখন আইন কোথায়?”—মালদহ কাণ্ডে মমতা সরকারকে তুলোধোনা দিলীপ ঘোষের!

মালদহ জেলায় সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে গ্রামবাসীদের হাতে পণবন্দি হওয়ার ঘটনায় এবার রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী সাফ জানিয়েছেন, এই নক্কারজনক ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বলে বর্তমানে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পুরো সিস্টেমকেই চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে: দিলীপ
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি বাংলায় কোনও আইনি ব্যবস্থা নেই। এখানে খোদ বিচারকদের ঘিরে ধরা হচ্ছে, আক্রমণ করা হচ্ছে—এটা বারবার ঘটছে। বিচারকদেরই যদি কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে কোথায়? এখানে তো পুরো সিস্টেমটাকেই চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে।” আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের পরিস্থিতি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে বলে তাঁর দাবি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “উনি নিরপেক্ষ ভোটের কারণেই আজ ক্ষমতায় বসে আছেন, অথচ আজ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।”

ঠিক কী ঘটেছিল মালদহে?
বুধবার মালদহ জেলায় তিনজন মহিলা বিচারকসহ মোট সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। জেলার অন্তত পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে জাতীয় ও রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, দীর্ঘ সময় ওই আধিকারিকরা জল বা খাবার ছাড়াই কাটাতে বাধ্য হন।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান:
এই ঘটনাকে “ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার নির্লজ্জ ও ইচ্ছাকৃত চেষ্টা” বলে বর্ণনা করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, আগে থেকে খবর থাকা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই গাফিলতির জেরে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি-কে শোকজ নোটিশ জারি করেছে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরবর্তী শুনানিতে শীর্ষ আধিকারিকদের ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।