ভোটের আগেই রণক্ষেত্র বাংলা! বেআইনি জমায়েত রুখতে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’-এর মতো কড়া মেজাজে কমিশন!

ভোটের ২০ দিন আগে থমথমে রাজ্য! ভোট শুরু হতে এখনও ২০ দিন বাকি, কিন্তু তার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার মাটি। কলকাতা থেকে মালদহ—বিক্ষোভ আর অশান্তির আগুনে ঘি পড়ছে রোজই। গত মঙ্গলবার কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরের সামনে নজিরবিহীন তাণ্ডব এবং বুধবার মালদহের কালিয়াচকে সাত বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে বেআইনি জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

কমিশনের কড়া ফতোয়া নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এখন থেকে অনুমতি ছাড়া রাজ্যের কোথাও কোনও মিছিল, সভা বা জমায়েত করা যাবে না। যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করেন, তবে তাঁকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। এমনকি খোদ সিইও দপ্তরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এখন থেকে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। সিইও দপ্তরের সামনে গত মঙ্গলবার তৃণমূলপন্থী বিএলও এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে যে ধস্তাধস্তি ও ব্যারিকেড ভাঙার দৃশ্য দেখা গিয়েছে, তা আর বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।

বিএলও-দের জন্য বিশেষ হুঁশিয়ারি বিএলও রক্ষা কমিটি মঞ্চকে ঘিরেও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। সাফ জানানো হয়েছে, যদি তারা ফের মঞ্চ বেঁধে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীদের সরাসরি সাসপেনশনের চিঠি ধরিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, চাকরির মায়া ত্যাগ করেই এবার পথে নামতে হবে আন্দোলনকারীদের। ফর্ম-৬ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দমনে এবার আর কোনও আপস করতে রাজি নয় কমিশন।

কালিয়াচক কাণ্ডে এনআইএ তদন্ত এদিকে, মালদহের এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজে যুক্ত সাত বিচারককে ৬-৭ ঘণ্টা বন্দি করে রাখার ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। নির্বাচনের মুখে এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে এনআইএ-র (NIA) হাতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার দায় কমিশনের ওপর চাপালেও, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের ডিজিপি-র কাছে কড়া কৈফিয়ত তলব করেছেন। সব মিলিয়ে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এবার ‘অ্যাকশন মোডে’ ভারতের নির্বাচন কমিশন।