“মালদা কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড গ্রেফতার”-পালানোর পথেই CID-র জালে মোফাক্কেরুল

মালদহের কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ৯ ঘণ্টা বন্দি করে রাখার ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হলো ঘটনার মূল অভিযুক্ত তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে। রাজ্য ছেড়ে পালানোর ছক কষার সময় CID-র জালে ধরা পড়েন এই বিতর্কিত রাজনীতিক।

ফেসবুক লাইভে গ্রেফতারির কবুলোক্তি

গ্রেফতার হওয়ার ঠিক পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করেন মোফাক্কেরুল। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “গ্রেফতার হলাম বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে। ডি-ভোটার বা ডিলিটেড ভোটার নিয়ে প্রতিবাদ স্থলে ছিলাম সেদিন, তাই গ্রেফতার করা হলো আমায়।” উল্লেখ্য, কালিয়াচকের সেই উত্তাল জনসভার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর হদিস পায়নি পুলিশ।

গাড়ির বনেটে দাঁড়িয়ে উস্কানি!

কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসের বাইরে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, একটি গাড়ির বনেটে দাঁড়িয়ে আঙুল উঁচিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন মোফাক্কেরুল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তিনি উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁর সেই বক্তৃতার পরেই ৩ মহিলা-সহ ৭ বিচারককে ঘেরাও করে রাখে কয়েক হাজার মানুষ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার থেকে মিম-এর প্রার্থী হওয়া মোফাক্কেরুলের রাজনৈতিক কেরিয়ার বরাবরই বিতর্কিত মন্তব্যে ঠাসা।

মাঠে নামল NIA: কড়া নজরে কালিয়াচক

মোফাক্কেরুলের গ্রেফতারির সমান্তরালে এই ঘটনার তদন্তে গতি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা NIA। শুক্রবার সকালেই এনআইএ-র একটি বিশেষ দল কালিয়াচকের ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছেন তদন্তকারীরা।

উত্তপ্ত রাজনীতি

মালদহ কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই লোকসভায় তৃণমূলকে নিশানা করেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, “মুখ্যমন্ত্রী নিজেই একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে উস্কানি দিচ্ছেন।” অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের ধমক খাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশনও। মুখ্যসচিব ও ডিজি-র সঙ্গে বৈঠকের পর এলাকা শান্ত রাখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মোফাক্কেরুল ইসলামের গ্রেফতারি এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই অশান্তির নেপথ্যে আর কার কার হাত রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ ও সিআইডি।