এনআরসি-র সঙ্গে এসআইআর-এর যোগ? অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগে সরব বামেরা

বঙ্গ রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো সিপিএম। গত ২৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে শাহের দেওয়া ‘ঘুসপেটিয়া’ (অনুপ্রবেশকারী) সংক্রান্ত মন্তব্যকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন’ বলে দেগে দিয়েছে বাম নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার সিপিএম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়ে শাহের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

সিপিএমের মূল অভিযোগ: সিপিএমের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ (SIR) এবং ‘এনআরসি’ (NRC)-কে একই বন্ধনীতে ফেলে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছেন। বামেদের মতে, শাহের মন্তব্য সাধারণ মানুষকে এটা ভাবতে বাধ্য করছে যে, এসআইআর আসলে অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত করার একটি হাতিয়ার। সিপিএম স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী কারও নাগরিক অধিকার বা ভোটাধিকার বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।

এনআরসি বনাম ভোটার তালিকা: চিঠিতে মহম্মদ সেলিম ও শমিক লাহিড়িরা উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরি হয়। এনআরসি থেকে বাদ পড়লেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যান না—যা খোদ নির্বাচন কমিশনই আগে স্পষ্ট করেছে। এমতাবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো উচ্চপদে থাকা একজন ব্যক্তির মুখ থেকে এই ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে লাল শিবির।

সিপিএমের পক্ষ থেকে অবিলম্বে শাহের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এখন দেখার, বামেদের এই নালিশের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়।