ওলটপালট আবহাওয়া: উত্তর থেকে পূর্ব ভারত, ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, তালিকায় পশ্চিমবঙ্গও!

চৈত্র মাসের তপ্ত রোদে যখন বঙ্গবাসী ঘামছে, ঠিক তখনই আবহাওয়ার ভোলবদলের বড়সড় পূর্বাভাস দিল মৌসম ভবন। এক শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে এপ্রিলের প্রথমভাগেই তোলপাড় হতে চলেছে ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ। ২ থেকে ৫ এপ্রিল এবং পুনরায় ৭ থেকে ১০ এপ্রিল—এই দুই দফায় ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এমনকি তুষারপাতের সাক্ষী হতে পারে একাধিক রাজ্য। বাদ যাবে না পশ্চিমবঙ্গও। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের পূর্ণ দাপট শুরু হওয়ার আগেই প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনা ভাবিয়ে তুলছে আবহবিদদের।
কোথায় কোথায় চরম দুর্যোগ? আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, এই শক্তিশালী ঝঞ্ঝাটি মূলত উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে আছড়ে পড়বে। জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজস্থান ও গুজরাটের সীমান্ত এলাকায় দুর্যোগ চরম রূপ নিতে পারে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও বইবে ঝোড়ো হাওয়া। উত্তর ভারতের সমভূমি পেরিয়ে এই দুর্যোগ ক্রমে পূর্ব ভারতের দিকে অগ্রসর হবে। যার ফলে দিল্লি-NCR, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশের একাংশেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
বাংলার ভাগ্য কী? পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি পূর্ব দিকে সরতে শুরু করলেই ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর তার প্রভাব পড়বে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিলম্বিত গ্রীষ্মের আগমন: সাধারণত এপ্রিল মানেই কাঠফাটা রোদ, কিন্তু এবার চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। টানা বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রার পারদ একধাক্কায় বেশ কয়েক ডিগ্রি নেমে যেতে পারে। ফলে ২০২৬-এর পুরোদস্তুর গ্রীষ্মের প্রবেশ কিছুটা বিলম্বিত হবে। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, এই স্বস্তি সাময়িক। পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টির রেশ কাটলেই শুরু হবে গরমের দাপট, যা তীব্রতার দিক থেকে ২০২৪ সালের ভয়াবহ গরমের রেকর্ডকেও ছুঁতে পারে। আপাতত আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির মেঘে ঢাকা থাকবে আকাশ, যা তপ্ত বৈশাখের আগে একচিলতে শীতলতা নিয়ে আসবে।