পকেটের টাকা লোকসান হতে দেবেন না! ইপিএফও-র এই ৫টি গোপন নিয়ম বদলে দিতে পারে আপনার জীবন

চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার হলো এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF)। কিন্তু আপনার কষ্টে উপার্জিত এই টাকার সুরক্ষা এবং নিয়মকানুন নিয়ে বাজারে অনেক ভুল ধারণা বা ‘মিথ’ প্রচলিত আছে। না জেনে ভুল পদক্ষেপ নিলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন আপনি। আজ আমরা ফাঁস করব পিএফ অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত এমন ৫টি মিথ, যা আপনার জানা জরুরি।
১. অবসরের বয়স কি সত্যিই ৬০ বছর? অনেকেই ভাবেন ৬০ বছর বয়সে পৌঁছালে তবেই পিএফ থেকে অবসর নেওয়া যায়। কিন্তু আসল সত্যিটা হলো, ইপিএফও (EPFO)-র নিয়ম অনুযায়ী অফিসিয়াল অবসরের বয়স ৫৮ বছর। এমনকি আপনি যদি ৫৮ বছরের পরেও চাকরি চালিয়ে যান, তবে আপনার পিএফ অ্যাকাউন্টে নতুন করে টাকা জমা হওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পেনশনের হিসেবনিকেশের জন্যও এই ৫৮ বছরকেই ‘কাট-অফ’ বয়স ধরা হয়।
২. চাকরি ছাড়লেই কি সুদ আসা বন্ধ হয়ে যায়? এটি একটি বড় ভুল ধারণা। আপনি যদি ৫৮ বছর বয়সে অবসর নেন, তবে আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার ওপর পরবর্তী ৩ বছর (অর্থাৎ ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত) সুদ পাওয়া যায়। তাই অবসর নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টাকা তুলে নিতে হবে এমন কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আপনার সঞ্চয় আরও তিন বছর বাড়তে থাকবে।
৩. যে কোনো বয়সে অবসর নিলেই কি ৩ বছর সুদ মেলে? অনেকে ভাবেন যখনই কাজ ছাড়বেন, তার পর থেকে ৩ বছর সুদ পাবেন। বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়। আপনি যদি কম বয়সে, ধরুন ৪৫ বছরে কাজ ছেড়ে দেন, তবে আপনার ৫৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত আপনি নিয়মিত সুদ পেতে থাকবেন। অর্থাৎ কম বয়সে কাজ ছাড়লে সুদ পাওয়ার সময়কাল অনেক বেশি হয়। আবার ৫৭ বছর বয়সে ছাড়লে ৬০ বছর পর্যন্ত সুদ পাবেন।
৪. টাকা জমা না পড়লে কি অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়? অনেকের ভয় থাকে যে চাকরি বদলালে বা মাঝে গ্যাপ পড়লে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। আসলে টানা ৩ বছর কন্ট্রিবিউশন জমা না পড়লে অ্যাকাউন্টটি ‘ইন-অপারেটিভ’ হয়ে যায়, কিন্তু সেটি কখনই পুরোপুরি বন্ধ হয় না। আপনি চাইলে পুরোনো অ্যাকাউন্ট থেকে নতুন অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে পারেন বা টাকা তুলেও নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, যে সময় টাকা জমা পড়েনি, সেই সময়কাল পেনশন সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
৫. চাকরি না ছাড়লে কি পেনশন পাওয়া যায় না? এটিও ভুল। ইপিএস (EPS) নিয়ম অনুযায়ী, আপনার বয়স ৫৮ বছর হয়ে গেলেই পেনশন চালু হয়ে যায়। আপনি যদি তার পরেও কাজ চালিয়ে যান, তবুও আপনি পেনশনের অধিকারী হবেন। বর্তমানে ন্যূনতম মাসিক পেনশন ১,০০০ টাকা হলেও, এটি বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা করার প্রস্তাব সরকারের টেবিলে বিচারাধীন রয়েছে।