যারা বেইমানি করে, তারা দলকে মা বলতে পারে না’, পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে গদ্দারদের শেষ বার্তা তৃণমূল সেনাপতির!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠতেই তৃণমূলের অন্দরে চোরাগোপ্তা অসন্তোষ নিয়ে এবার খড়্গহস্ত হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের একাধিক জায়গায় যে ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে, তা নেভাতে বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের সাংগঠনিক বৈঠক থেকে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বিক্ষুব্ধদের উদ্দেশে তাঁর সাফ কথা, “আগে ঘরের সাপ তাড়ান, তারপর নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করবেন।”

প্রার্থী অসন্তোষ নিয়ে কড়া অবস্থান: পূর্ব মেদিনীপুরের মাটি থেকে অভিষেক স্পষ্ট করে দেন যে, নির্দল হিসেবে দাঁড়ানো বা দলের প্রার্থীর বিরোধিতা করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, “দল যাকে প্রতীক দিয়েছে, তাকেই জেতাতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত অভিমানের কোনো জায়গা নেই। যারা যুদ্ধের ময়দানে বেইমানি করে, তারা আর যাই হোক দলকে ‘মা’ বলতে পারে না।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, প্রত্যেকের পারফরম্যান্সের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যারা ভালো কাজ করবেন তারা পুরস্কার পাবেন, আর যারা অন্তর্ঘাত করবেন তাদের জন্য জুটবে চরম তিরস্কার।

তালডাংরার লড়াই ও মোক্ষম দাওয়াই: মেদিনীপুরের বৈঠকের পর বাঁকুড়ার তালডাংরায় জনসভা করেন অভিষেক। সেখান থেকে কৌশলী চাল চেলে তিনি বলেন, “২০২১ সালে যে ৪টি অঞ্চলে আমরা পিছিয়ে ছিলাম, এবার সেখান থেকে তৃণমূলকে এমনভাবে জেতাতে হবে যাতে আগামী ১০০ বছর বিজেপি এখানে প্রার্থী খুঁজে না পায়।” ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “জোড়া ফুল চিহ্নের পাশের বোতামটা এমনভাবে টিপুন, যাতে ৪ তারিখ ফল বেরোনোর সময় বিজেপি সর্ষে ফুল দেখে। বাংলার মানুষ নিজের ক্ষমতা বুঝিয়ে দেবে।”

পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা স্বীকার করে নিয়েও অভিষেক এদিন কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং বেইমানদের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ। এখন দেখার, অভিষেকের এই ‘সাপ তাড়ানো’র দাওয়াই দলের অন্দরের বিদ্রোহ কতটা দমন করতে পারে।