“একটা সম্প্রদায়ের মানুষকে উস্কাচ্ছেন মমতা”-মালদা কান্ড নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু!

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তপ্ত মালদা। ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে যে নজিরবিহীন অশান্তি এবং সাত বিচারককে ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে এবার তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অজ্ঞতা’, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘বিস্ফোরক উস্কানি’র অভিযোগ—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন তোলপাড়।

“মুখ্যসচিব-ডিজি কথা শোনেন না”, দায় ঝেড়ে ফেললেন মমতা মালদার অশান্তি নিয়ে মুখ খুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই ঘটনার বিষয়ে তিনি অন্ধকারে ছিলেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “নির্বাচন কমিশনের হাতে আইন-শৃঙ্খলা চলে যাওয়ার পর মুখ্যসচিব বা ডিজি কেউ যোগাযোগ রাখে না।” অর্থাৎ, প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় পরোক্ষভাবে কমিশনের ওপরেই ঠেলে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

“মহিলাদের আপনিই তো হাতা-খুন্তি নিয়ে নামতে বলেছেন!” পাল্টা শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “এটা জানানোর বিষয় নয়, উনিই তো মহিলাদের হাতা-খুন্তি নিয়ে বেরোতে বলছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পেটাতে বলছেন।” শুভেন্দুর আরও দাবি, একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উস্কে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের মাধ্যমে মালদায় এই অশান্তি করিয়েছেন। এমনকি “শুক্রবার একটু-আধটু হবে” বলে মুখ্যমন্ত্রী আগে যে মন্তব্য করেছিলেন, তাকেও হাতিয়ার করেন বিরোধী দলনেতা।

বিচারব্যবস্থায় ‘থ্রেট কালচার’: গুরুতর অভিযোগ শুভেন্দুর শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় এদিন উঠে আসে বিচারব্যবস্থার ওপর আক্রমণের প্রসঙ্গও। বিচারপতি কৌশিক চন্দকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা থেকে শুরু করে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বা রাজশেখর মন্থাকে টার্গেট করা—সব কিছুর জন্যই মমতাকে দায়ী করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “জুডিশিয়ারিকে থ্রেট কালচারের মুখে পড়তে হচ্ছে। কসবা ল’ কলেজ থেকে ছাত্র এনে এজলাস ভণ্ডুল করা হয়েছে।”

রাজনৈতিক সমীকরণে বড় রদবদল: বিজেপিতে কানাই মণ্ডল অশান্তির আবহে রাজনৈতিক দলবদলের খবরও নজর কেড়েছে। এদিন প্রবীণ নেতা ও কৃষক আন্দোলনের পরিচিত মুখ কানাই মণ্ডল আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন। আগে বামফ্রন্ট ও তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতার যোগদান মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মালদায় বিচারকদের উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা এবং মধ্যরাতের সেই রুদ্ধশ্বাস নাটক এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয়। সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার পর মালদার এই ঘটনা যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দলকে প্রবল চাপে ফেলল, তা বলাই বাহুল্য।