ভবানীপুরে মমতার রেকর্ড জয়ের ছক! ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে হঠাৎ কেন নামানো হলো জাভেদ খানকে? জানুন তৃণমূলের গোপন ‘মাইক্রো-প্ল্যান

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যবধানকে ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবার ‘মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট’-এ জোর দিল তৃণমূল কংগ্রেস। স্রেফ জয় নয়, বরং রেকর্ড ভোটে জয় নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড ধরে ধরে রণকৌশল সাজিয়েছেন খোদ তৃণমূল নেত্রী। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক ও প্রচারের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী তথা দক্ষ সংগঠক জাভেদ খানের হাতে।
কৌশলী রদবদল: ভবানীপুর কেন্দ্রে মোট আটটি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় এই ওয়ার্ডগুলির দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছিল তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মধ্যে। ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে সুব্রত বক্সির অধীনে থাকলেও, নির্বাচনের ঠিক আগে মমতার নির্দেশে সেখানে জাভেদ খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ওয়ার্ডের বিশেষ জনতাত্ত্বিক বিন্যাসই (Demographic) এই পরিবর্তনের নেপথ্যে মূল কারণ।
কেন জাভেদ খান? ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডটি মূলত অবাঙালি এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই এলাকায় বিরোধীরা শাসকদলকে কড়া টক্কর দিয়েছিল। জাভেদ খান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। কসবা ও সংলগ্ন এলাকায় তাঁর ব্যাপক জনভিত্তি রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার ভবানীপুরের এই মিশ্র জনসংখ্যার ওয়ার্ডে কাজে লাগাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।
লক্ষ্য একটাই—রেকর্ড ব্যবধান: দায়িত্ব পাওয়ার পরেই জাভেদ খান জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো এই ওয়ার্ড থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সবচেয়ে বড় লিড নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বার্তা দেব। আমরা বদ্ধপরিকর যে এখান থেকে রেকর্ড ব্যবধান সুনিশ্চিত করব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল এবার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই বুথ স্তরে সংগঠনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে এবং প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছাতে এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে।