৫২ বছর পর ইতিহাস! চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল আর্টেমিস-২: ওমনি ভ্যানের সমান জায়গায় ৪ মহাকাশচারীর ১০ দিন কাটবে কীভাবে?

প্রায় ৫২ বছর আগে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশন শেষ হওয়ার পর মানবসভ্যতা আর চন্দ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নাসা শুরু করল তাদের ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশন। যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বুধবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে) চারজন অসমসাহসী মহাকাশচারীকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে শক্তিশালী মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’।

মিশনে কারা আছেন? এই মিশনটি বৈচিত্র্যের দিক থেকেও অনন্য। ক্রু টিমে রয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, এবং মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেন। উল্লেখ্য, ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের পথে যাত্রা করা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী এবং ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী হিসেবে এই দুর্লভ কৃতিত্বের অংশীদার হলেন। এছাড়া জেরেমি হ্যানসেন হলেন ডিপ স্পেসে যাওয়া প্রথম কানাডীয়।

কেমন হবে মহাকাশের জীবন? আর্টেমিস-২ মিশনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর জীবনযাত্রা। ওরিয়ন মহাকাশযানের ভেতরের জায়গাটি একটি সাধারণ ‘মারুতি ওমনি’ ভ্যানের সমান (প্রায় ৩৩০ বর্গফুট)। এইটুকু জায়গার মধ্যেই চারজন মহাকাশচারীকে পরবর্তী ১০ দিন কাটাতে হবে। সেখানে নেই কোনো আলাদা কেবিন বা বিছানা; দেওয়ালের স্লিপিং ব্যাগে ঝুলে তাদের ঘুমাতে হবে। নেই কোনো বাথরুমের বিলাসিতা কিংবা গোসলের সুযোগ। শরীর পরিষ্কার রাখতে হবে কেবল ভেজা টিস্যু বা ওয়াটারলেস শ্যাম্পু দিয়ে।

খাবারের তালিকায় থাকছে ১৮৯ ধরনের পদ, যার মধ্যে চিজ ম্যাকারনি থেকে শুরু করে বারবিকিউ বিফও রয়েছে। তবে সবই শুকনো বা প্রক্রিয়াজাত; কেবল জল মিশিয়ে গরম করে নিতে হবে। ওজনহীনতায় শরীরের পেশি সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট কঠোর ব্যায়াম করা বাধ্যতামূলক।

অভিযানের পথ ও চ্যালেঞ্জ: উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই ওরিয়ন তার গতি বাড়াবে। মিশনের ষষ্ঠ দিনে মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠে (ডার্ক সাইড) পৌঁছাবে, যা পৃথিবী থেকে কখনো দেখা যায় না। সেই সময় প্রায় ৩০-৫০ মিনিট পৃথিবীর সাথে সব ধরনের রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। চাঁদের মহাকর্ষীয় শক্তি ব্যবহার করে এটি আবার পৃথিবীর দিকে ঘুরে আসবে, যাকে বলা হয় ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্রাজেক্টরি।

আগামী ১০ দিনের এই সফরে অনেক ঝুঁকিও রয়েছে। সৌর বিকিরণ থেকে বাঁচতে মহাকাশচারীদের বিশেষ ‘প্রোটেক্টিভ শিল্ড’ ব্যবহার করতে হতে পারে। সব শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে প্যারাসুটের মাধ্যমে অবতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই ঐতিহাসিক সফর, যা ভবিষ্যতে মঙ্গলে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।