“হোটেলের লিফটে রোবট!”-হংকং-কে কেন প্রযুক্তির ‘সেফ প্যাসেজ’ বানাচ্ছে চীন?

আমেরিকা ও ইউরোপের কঠোর বিধিনিষেধ আর অবিশ্বাসের দেওয়াল টপকাতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। বিশ্ববাজারে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ টানতে এখন হংকং-কেই প্রধান প্রবেশদ্বার বা ‘গেটওয়ে’ হিসেবে ব্যবহার করছে বেইজিং।
হোটেলের লিফটে চিনা রোবটের চমক হংকংয়ের একটি ব্যস্ত হোটেলের লিফটে মানুষের ভিড় সামলে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করছে একটি রোবট। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ইউঞ্জি’-র তৈরি এই রোবটটি আসলে চীনের বৃহত্তর উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক। ইউঞ্জি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিই ইউনপেং স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হংকংয়ে সফল হয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের বিস্তার ঘটানো।
কেন হংকং-কেই বেছে নিচ্ছে চীন? আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো এখন চীনা প্রযুক্তির ওপর ‘রাষ্ট্রীয় মদদে গোয়েন্দাগিরি’ বা ‘চায়না রিস্ক’-এর তকমা দিয়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে:
-
বিনিয়োগের সহজ পথ: ২০২৪ সালে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত চীনা কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৩০টি, যা ২০২৫ সালে ১৫৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬টিতে।
-
বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন: নিউ ইয়র্ক বা লন্ডনের বদলে হংকং থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা পাওয়া সহজ হচ্ছে।
-
ডেটা গেটওয়ে: চীনা এআই কোম্পানিগুলোর জন্য হংকং এখন ‘ডেটা কমপ্লায়েন্স ট্রান্সফার স্টেশন’ হিসেবে কাজ করছে, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন পরীক্ষা করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বিপত্তি যেখানে তবে এই পথ খুব একটা মসৃণ নয়। ২০১৯ সালের পর হংকংয়ে জারি হওয়া কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন আন্তর্জাতিক মহলে হংকংয়ের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ণ করেছে। সমালোচকদের মতে, হংকং এখন আর আগের মতো স্বাধীন বাণিজ্যিক কেন্দ্র নেই।
পাশাপাশি, ‘লাকিন কফি’ কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলো এখনও বিনিয়োগকারীদের মনে সংশয় জাগিয়ে রেখেছে। ফরাসি বিনিয়োগ ব্যাংক ‘নাটিক্সিস’-এর মতে, হংকং চীনা কোম্পানিগুলোকে কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে পারে, কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করার ক্ষমতা তার নেই।
চীনের নয়া লক্ষ্য বর্তমানে বেইজিংয়ের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূলে রয়েছে এআই (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া। এই লক্ষ্য পূরণে হংকং এখন চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য কেবল একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, বরং বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে একটি কৌশলগত ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।