সিব্বলের আরজি খারিজ? সুপ্রিম কোর্টের ‘বিস্ফোরক’ পর্যবেক্ষণ মুছতে মরিয়া রাজ্য সরকার

মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থাকল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার রাতের সেই নারকীয় ঘটনাকে ‘চরম আইন-শৃঙ্খলার অবনতি’ (Complete Breakdown of Law and Order) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়ে মালদহের জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপার (SP)-কে শোকজ করার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপির কাছে রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।
শুনানি চলাকালীন আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের শিকার। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এই ঘটনায় সিবিআই বা এনআইএ তদন্তের ইঙ্গিতও দিয়েছে আদালত। তবে বিপত্তি বাঁধে ‘Complete Breakdown of Law and Order’ শব্দবন্ধটি নিয়ে। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল হাতজোড় করে আদালতকে অনুরোধ করেন এই মন্তব্যটি লিখিত নির্দেশনামা থেকে বাদ দিতে। তাঁর যুক্তি, এমন মন্তব্য থাকলে ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রশাসনিক ভাবমূর্তিতে বড় প্রভাব পড়বে। যদিও আদালতের পালটা প্রশ্ন—আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও কেন বিচারকদের নিরাপদে সরানো হলো না?
অন্যদিকে, কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু সিব্বলের এই আরজির বিরোধিতা করে জানান, আদালতের এই পর্যবেক্ষণই বর্তমান বাংলার বাস্তব পরিস্থিতি। রাজ্যের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বললেও এর পেছনে উস্কানির অভিযোগ তোলেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠির ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের থেকেও রিপোর্ট চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কালিয়াচকের এই ঘটনা এখন কেবল একটি জেলা বা রাজ্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতীয় স্তরে বিচারব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।