ভোটের মুখে বিপাকে সোহম! ৬৮ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে সরাসরি হাইকোর্টে মামলা

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূলের তারকা প্রার্থী ও অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। এবার চণ্ডীপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা বর্তমানে নদিয়ার করিমপুরের তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ। এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগের তির সরাসরি সোহমের দিকে—কোটি টাকার চুক্তি করেও নাকি তিনি টাকা ফেরত দেননি।
মামলাকারী শাহিদ ইমামের দাবি, ২০২১ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সোহমের সঙ্গে এক কোটি টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির ভিত্তিতে সোহমকে ধাপে ধাপে মোট ৬৮ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ছবি আর আলোর মুখ দেখেনি। অভিযোগ, ছবি না হওয়া সত্ত্বেও সোহম ওই বিপুল পরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। শাহিদ ইমাম জানান, একসময় তিনিও যুব তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেল খাটার পর ফিরে এসে নিজের পাওনা টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা মেটানো তো দূরের কথা, উল্টে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এর আগেও এই বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শাহিদ। তখন আদালত বিষয়টি আলাপ-আলোচনার (Arbitration) মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও কোনও সুরাহা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই পুনরায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের প্রচার চলাকালীন এই ধরনের বিস্ফোরক অভিযোগ সোহম তথা শাসক শিবিরের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করিমপুরের মানুষের দুয়ারে যাওয়ার ঠিক আগেই এই আইনি গেরো সোহমের ভোট বৈতরণী পার হওয়া কঠিন করে তোলে কি না, সেটাই এখন দেখার।